মানব পাচারকারী চক্রের নারী সদস্য গ্রেফতার, ভুক্তভোগী উদ্ধার
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিদেশে উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সাভারে জোরপূর্বক আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করানো ও মানব পাচারের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অবরুদ্ধ থাকা দুই মাসের অন্তঃস্বত্তা ভুক্তভোগী এক তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র্যাব-৪। এর আগে বৃহস্পতিবার উপজেলার আমিনবাজার বড়দেশী গ্রামে অভিযান চালিয়ে ঐ নারী পাচারকারী দলের সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব। তবে এ সময় পালিয়ে যায় চক্রের হোতা জাকির হোসেন।
গ্রেফতারকৃত মোছা. রেহানা বেগম লক্ষ্মীপুর জেলার সদর থানা এলাকার জকসিন গ্রামের বাসিন্দা এবং এ চক্রের হোতা পলাতক মোঃ জাকির হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে গতকাল সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
র্যাব জানায়, কিছু মানব পাচারকারী কিশোরীদের উচ্চ বেতনে লোভনীয় চাকরির প্রলোভন দিয়ে বিভিন্ন দেশের পতিতালয়ে বিক্রি করে আসছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকালে র্যাব-৪-এর একটি দল উপজেলার আমিনবাজার বড়দেশী পশ্চিমপাড়া এলাকায় অভিযান চালায় । এ সময় ঘটনাস্থল থেকে দুই মাসের অন্তঃসত্তা ভুক্তভোগী এক তরুণীকে উদ্ধারসহ মানব পাচারকারী চক্রের সক্রিয় নারী সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, রেহানা বেগম তার স্বামী জাকির হোসেনের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে একটি ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় আটকে রাখে এবং গত চার মাস যাবত্ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ভয়ভীতি দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেছে। ফলে ঐ তরুণী দুই মাসের সন্তান সম্ভবা হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে র্যাব-৪-এর মেজর মোহাম্মদ কামরুল সোহেল জানান, অভিযুক্তরা প্রায় তিন বছর ধরে বড়দেশী গ্রামে বসবাস করে মানব পাচারকারী চক্র পরিচালনা করে আসছিল। গ্রেফতারকৃতের বাড়ি ভুক্তভোগীর নানাবাড়ির কাছে হওয়ায় গত জানুয়ারি মাসে উচ্চ বেতনে বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চট্টগ্রাম থেকে ঐ তরুণীকে ঢাকায় নিয়ে আসে। প্রথমে তাকে মারধর করে আটকে রেখে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা এবং পরে আমিন বাজারের গ্রীন আবাসিক হোটেলে নিয়ে একই কাজে বাধ্য করা হয়েছে।
