গাজীপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে মাদ্রাসা ছাত্র সন্তানকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনায় অভিযুক্ত পিতা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই পুলিশ। গ্রেফতারকৃত পিতার নাম বাবুল হোসেন (৪২) ও তার সহযোগী ভাগ্নি জামাই এমদাদুল (৩৫)।
পিবিআই গাজীপুর ইউনিট ইনচার্জ (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, গত ৮ মার্চ রাতে বিপ্লব আকন্দ (১৪) মসজিদে নামাজ পড়ার কথা বলে ঘর থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে জয়দেবপুর থানাধীন পিরুজালী বকচরপাড়ার সানাউল্লাহ মুন্সির বাঁশ ঝাড়ের পাশে ফাঁকা জায়গা থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার মা খাদিজা আক্তার জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। থানাপুলিশ এক মাস তদন্ত করে রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় পিবিআই গাজীপুর বিষয়টি তদন্ত করে।
ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, আসামি বাবুল হোসেন আকন্দ (৪২) ১২ বছর আগে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জুলিয়াকে বিয়ে করে এবং পৈতৃক দুই কাঠা জমি বিক্রি করে টাঙ্গাইলে তার বাবার বাড়িতে ঘর তৈরি করে দেয়। কিন্তু জুলিয়া সেখানে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে চলাফেরা করায় বাবুল তাকে নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালীতে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকে। জুলিয়া প্রায়ই বাবুলের বড় স্ত্রী খাদিজাকে মারধর করত। ফলে খাদিজার সঙ্গে জুলিয়ার ঝগড়াবিবাদ লেগে থাকত। হত্যাকাণ্ডের ১০ দিন আগে জুলিয়া পিরুজালী এসে এমদাদের সঙ্গে দেখা করে বিপ্লবকে হত্যা করার জন্য বাবুলকে রাজি করাতে বলে। বাবুল এমদাদুলের পরামর্শে তার ছোট ছেলে বিপ্লবকে খুন করার পরিকল্পনা করেন।
এমদাদ বিপ্লবকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে নেশা জাতীয় ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ায় এবং বাবুল ছেলেকে নিয়ে পিরুজালী বকচরপাড়ার বাঁশ ঝাড়ের পাশে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যায়। এর মধ্যে বিপ্লব ঝিমিয়ে পড়তে থাকে এবং বাড়ি যাওয়ার কথা বলে মাটিতে শুয়ে পড়ে। তখন বাবুল কোদাল দিয়ে বিপ্লবের গলায় কোপ দেয়। বাবুল পুনরায় কোদাল দিয়ে শরীরের বিভিন্ ্নস্থানে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। আসামিরা শুক্রবার গাজীপুর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
