মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচর নামক স্থানে গতকাল শনিবার পক্ষে-বিপক্ষে মানববন্ধন করাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিবাদমান দুই গ্রুপে ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়। এ সময় মোটরসাইকেলসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনাস্থলসহ কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। টান-টান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খানের বাবা বীরমুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক এমপি মরহুম মৌলভী আছমত আলী খানকে নিয়ে কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় মাদারীপুরে বেশ কিছু দিন ধরে আওয়ামী লীগের শাজাহান খান গ্রুপের নেতাকর্মীসহ বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শনিবার মৌলভী আছমত আলী খানকে নিয়ে কটূক্তিকারী মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লার পদত্যাগের দাবিতে শাজাহান খান গ্রুপ সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কলাবাড়ি স্ট্যান্ডে একটি মানবন্ধনের আয়োজন করে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম ও মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন মোল্লা গ্রুপের সমর্থকরা একই সময় মানববন্ধন করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পালটা ধাওয়া শুরু হয়। সেসময় উত্তেজিত নেতাকর্মীরা পার্শ্ববর্তী ঘটকচর স্ট্যান্ডে আটটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ, এক সাংবাদিকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. এহসানুল রহমান ভুঁইয়া জানান, আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি। কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন অনিক বলেন, শেখ হাসিনার কারামুক্তি উপলক্ষ্যে কেন্দুয়া আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাস্তার পাশে মানববন্ধন চলছিল। এসময় শাজাহান খানের সমর্থকরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রুবেল খান বলেন, মরহুম আছমত আলী খান জেলার সকলের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক এমপি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তাকে স্বাধীনতা পদক দিয়েছেন আমাদের সফল প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। সেই পদক নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা কটূক্তি করে বক্তব্য দিয়েছেন।
