ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখনো বাস করছে পাহাড়ের গায়ে

আপডেট : ১২ জুন ২০২১, ২৩:০৬

রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসের চার বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাতে টানা তিন দিনের ভারী বৃষ্টিতে এখানে ঘটে স্মরণকালের পাহাড় ধসের ঘটনা। পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে সেই দিন প্রাণ হারান সেনা সদস্য, নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২০ জন। এর মধ্যে শহরের মানিকছড়িতে একটি সেনা ক্যাম্পের নিচে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের ওপর ধসে পড়া মাটি অপসারণ করতে গিয়ে পুনরায় পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে নিহত হন ঐ ক্যাম্পের দুই কর্মকর্তাসহ পাঁচ সেনা সদস্য।

২০১৭ সালে ভয়াল পাহাড় ধসের ঘটনার চার বছর হলেও এখনো অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আজও বাস করছেন পাহাড়ের গায়ে। প্রতি বছরের মতো এবারও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহর ও উপজেলাগুলোতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ এলাকায় ও আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। শহরের বেশকিছু স্থানে পাহাড়ের পাদদেশে এখনো অসংখ্য বাড়ি-ঘর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবে পাহাড়ের নিচে বসবাসকারীরা এখনো কেউ সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়নি। বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে অনিহা প্রকাশ করছে।

ঐ দিনটির কথা স্মরণ করে এ বছরও রাঙ্গামাটি জেলায় প্রাণহানি এড়াতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৭ সালের পাহাড় ধসের ঘটনা অন্য আরেকটা পাহাড় ধসের ঘটনার মতো ছিল না। ব্যাপক প্রাণহানির সঙ্গে ভৌত অবকাঠামোর ভীষণ ক্ষতি হয়। পাহাড়ে ঘরবাড়ি আছে এমন পাহাড়ও যেমন ভেঙেছে, তেমনি ঘরবাড়ি ছিল না এমন অসংখ্য পাহাড়ও ভেঙে পড়ে। আবার ঝোপ-জঙ্গল গাছপালাতে ভরপুর এমন পাহাড়ও ভেঙে পড়ে। এক কথায় সব রকম পাহাড়েরই মাটি ধসে পড়ে। এটার গভীরতা অনেক বেশি ছিল।