অনলাইন পরীক্ষা নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাবনা

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ২০:৪১

দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর অবশেষে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করলেও, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভেতর দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ বিষয়ে  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরছেন—

ইসরাত জাহান চৈতী

করোনা পরিস্থিতিতে সবকিছু থেমে থাকলেও এই মুহূর্তে শিক্ষাক্ষেত্র ছাড়া বাকি সবকিছুই চলছে পুরোদমে। বিভিন্ন সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বললেও প্রায় দেড় বছরেও খুলতে পারেনি বরং দফায় দফায় বাড়িয়েছে ছুটি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জাবিতে আপাতত অনলাইনে বিভিন্ন বর্ষের থেমে থাকা পরীক্ষাগুলো নিতে সম্মত হয়েছেন। যেখানে বেশ  কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সশরীরে পরীক্ষা নিতে সম্মত হয়েছে। একজন অনলাইন পরীক্ষার্থী  হিসেবে আমার মিশ্র একটি অনুভূতি কাজ করছে। এর ইতিবাচক দিক হিসেবে বলা যায়, দফায় দফায় বাড়ানো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির শেষ দফা কবে আসবে সে বিষয়ে যেহেতু কেউই সুনির্দিষ্ট কোনো খবর জানেন না, সেহেতু গলায় বিঁধে থাকা কাঁটার মতো পরীক্ষাগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য অনলাইন পদ্ধতিই হতে পারে উত্তম পন্থা।

—সাইহা মেহ্-জাবীন পৃথা

ইতিহাস বিভাগ, ৪৬তম আবর্তন।

 

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঙ্গে চাকরির সংযোগের কারণে পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বহু আগেই। এ অচলাবস্থার বিকল্প হিসেবে অনলাইন পরীক্ষা আলোচনায় এসেছে। বাস্তবিক অর্থে আমাদের অনলাইন পরীক্ষা নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে কি-না, এটা বড় প্রশ্ন। যে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত অনলাইন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারছে না, তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান না করে এই পরীক্ষা পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করা কঠিন। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যাচভিত্তিক পরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দিতে পারে। একই সময়ে শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবে। পর্যায় ক্রমিকভাবে সবগুলো ব্যাচের পরীক্ষা নিলে আবাসিক হল এবং ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব।

—মো. নাইমুল ইসলাম

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, ৪৯তম আবর্তন।

 

জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি মিলেছে। শুরুর দিকে অনলাইনে পরীক্ষা দেওয়া তো দূরের কথা, নিয়মিত ক্লাস করতে পারব এই ভাবনাটাই খুব অবাস্তব বলে মনে হতো। তবে কিছু দিনের অনলাইন ক্লাসের অভিজ্ঞতায় বিষয়টার সঙ্গে কিছুটা অভ্যস্ত হয়েছি। অনেকের মতো আমিও স্বস্তি পেতাম স্বাভাবিকভাবে আগের মতো পরীক্ষাটা হলেই। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে নেই এখনো। তবে সারা বছর অনেকেই বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে  অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হতে পারেনি। যদি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনলাইনেই পরীক্ষা নেওয়া হয় অন্তত এটা নিশ্চিত করা উচিত যেন সবাই সমান সুযোগ পায়। সেটা হতে পারে  তাদের হলে রেখে অথবা ডিভাইস বা ইন্টারনেট সুবিধা দিয়ে।

—তাসনুভা আলম অহনা

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, ৪৭তম আবর্তন।