রক্তের বন্ধন

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ২১:০০

আমাদের দেশে সামাজিকভাবে রক্তদানের হার খুব বেশি নয়। পারিবারিক প্রয়োজনে রক্তদানের বাইরে কেউ তেমন স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে চান না, আবার এটাতে সচেতনতাও লক্ষ করা যায় না। কখনো চিন্তা করে দেখেছেন, আপনার দেওয়া মাত্র ৩৫০ মিলি রক্ত অর্থাত্ এক ব্যাগ রক্ত একজন মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে?

বর্তমানে ৭০-৭৫ শতাংশ প্রসূতি মায়ের সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় রক্তের প্রয়োজন হয়। এছাড়াও থ্যালাসেমিয়া, দুর্ঘটনা, রোগীর অস্ত্রোপচারসহ নানা কারণে বিশুদ্ধ রক্তের চাহিদা সবসময়ই। বছরে প্রায় ৬০ হাজার ব্যাগ রক্ত ঘাটতি থেকে যায় আমাদের। কিন্তু খুশির ব্যাপার হচ্ছে, স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা গত কয়েক বছরে বেড়েছে অনেকগুণ। যা ইতিবাচক সংবাদ। চিকিত্সা বিজ্ঞান বলছে, সুস্থ মানুষ রক্তদান করলে কোনো ক্ষতি হয় না। প্রতি চার মাস অন্তর একবার করে বছরে তিনবার রক্ত দেওয়া যেতে পারে। এজন্য অনেক মানবিক ও সমাজমনস্ক তরুণ-যুবক নিয়মিত রক্তদান করছেন। মানুষ মানুষের জন্য—কথাটি এখনো সার্থকতা পায় নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কারণেই। স্বেচ্ছা রক্তদানের সামাজিক প্রণোদনা সৃজনের পাশাপাশি মানবতার স্বার্থে নিবেদিত রক্তদাতাদের প্রতি হূদয়ের গভীর থেকে অন্তহীন শুভেচ্ছা জানানো আমাদের সবার কর্তব্য। নিঃস্বার্থ চিত্তে যাঁরা অজানা-অচেনা মানুষের সঙ্গে নতুন করে রক্তের বন্ধন রচনা করছেন, বিপন্ন মানুষকে সুস্থতার পথ দেখাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

মুহাম্মদ নুর রায়হান চৌধুরী

পরিচালক, কোতোয়ালী ব্লাড ব্যাংক, চট্টগ্রাম