প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে যেভাবে আছেন গৃহহীনরা

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ২২:১৪

ভ্যানচালক নিমাই দাস। পাঁচ সদস্যের পরিবার তার। ছিলেন ছোট্ট একটি ভাড়া ঘরে। দিনে যা আয় হতো সেটি দিয়ে খাবারের ব্যবস্থার পর মাস শেষে ভাড়ার টাকা মিটানোর কারণে প্রতিমাসেই হিমশিম খেতে হতো। নিজের একটু জমিও ছিল না যে একটি ঘর তুলবেন। তার কাছে জমিসহ নিজের একটি ঘর যেন আজীবনের লালিত স্বপ্ন। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে নিমাই দাসের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি পেয়েছেন জমিসহ মাথা গোঁজার ঠাঁই।

খুলনার ডুমুরিয়ার কাঠালতলার নিমাই দাস এখন পরিবার নিয়ে থাকছেন নিজের ঘরে। এখন সংসারের চাহিদা মিটিয়ে কিছু সঞ্চয়েরও চিন্তা করছেন। নিমাই দাস বলেন, আগে যখন সারা দিন ভ্যান চালিয়ে ভ্যানটা কোথায় রাখব এ নিয়ে ভাবতে হতো, মানুষ কত               রকম কথা বলতো ভ্যানটা একটু এখানে সেখানে রাখার কারণে। এখন সেই ভ্যান নিজের জায়গায় রাখি। ছেলেমেয়েসহ থাকি নিজের ঘরে। আমি এখন যে ঘর ও জমির মালিক, সে ঘর ও জমি বাজারের পাশে হওয়ায় যে দাম, সেটি আমার সারাজীবন রোজগার করলেও কেনা সম্ভব ছিল না। তাহলে এটি কি আমার জন্য স্বপ্নের মতো না? এই ঘরের কারণে মানুষ আমাকে এখন অন্য চোখে দেখে। সামাজিকভাবে আমি নিজের একটি পরিচয়ও পেয়েছি।

খুলনার ডুমুরিয়ার কাঁঠালতলায় ঘর পেয়েছেন জুমা সর্দার। যার বিয়ের এক বছরের মাথায় স্বামী মারা যায়। এর পর আর বিয়ে করেননি। বাবা-মায়ের বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু বাবা-মা মারা যাওয়ার পরে ভাই-ভাবি সব সময় কথা শোনাতেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর বোনের মেয়েকে মানুষ করাই ছিল তার বড় কাজ। কারণ বোনও মারা যাওয়ায় বাবা-মা ছাড়াই তাকে বড় হতে হয়েছে খালার কাছে। সেই হতভাগী নারী পেয়েছেন এবার জমিসহ ঘর। বোনের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে জীবনের শেষ সময় এখন এই ঘরেই তার কাটছে। বাসা বাড়িতে কাজের পাশাপাশি দৈনিক মজুরিতে বিভিন্ন কাজ করেন। জুমা সর্দার বলেন, এখন আমি কিছু টাকাও সঞ্চয় করেছি। আগে কত বঞ্চনা ছিল আমার জীবনে। নিজের কোনো অবস্থান ছিল না সমাজে। আমার এখন একটা ঘর হয়েছে। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই ঘরেই থাকতে চাই। ঘরের আশপাশে তিনি কিছু সবজিও লাগিয়েছেন। একা মানুষ। তাই তার ছোট্ট সংসারে তিনি এখন শুধু শান্তিতে একটু থাকতে চান। কথায় কথায় বললেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের যেভাবে সম্মানিত করেছেন সেভাবে সৃষ্টিকর্তা তাকেও সম্মানিত করুক। তিনি আরো বলেন, ডুমুরিয়ায় এখানে তাদের ঘরের পাশাপাশি খাওয়ার পানির জন্য টিউবওয়েলেরও ব্যবস্থা করেছেন। যা তাদের দৈনিক পানির চাহিদাও পূরণ করছে। 

গত ২৩ জানুয়ারি সারা দেশের গৃহহীন, ঠিকানাহীন ও সুবিধাবঞ্চিত ৬৬ হাজার ১৮৯টি ভূমিহীন পরিবারের হাতে মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে এসব ঘর তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর ইউনিয়নের কাঁঠালতলায় তখন এসব ঘর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। পরে ভ্যানচালক নিমাই দাস, জুমা সর্দার, রত্না দাসসহ গৃহহীনরা এসব ঘরে বসবাস শুরু করেন। ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে আবাসন সুবিধার আওতায় আনার জন্য সরকারের কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২০ জুন আরো ৫৩ হাজার বাড়ি হস্তান্তর করবেন বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন।