চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্তের উদ্যোগ নেই

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ২২:২০

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল বড় ধরনের ভূমিকম্প ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। রিখটার স্কেলে ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু ভূমিকম্প থেকে প্রাণহানি রোধে কোনো প্রস্তুতি নেই। এই পর্যন্ত নগরীতে কি পরিমাণ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ তা শনাক্ত করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল-ক্লিনিক, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা দ্রুত চিহ্নিত করা প্রয়োজন বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এরপর যেটি সংস্কার করার মতো সেটি সংস্কার করা, আর যেগুলো ভেঙে ফেলার দরকার সেগুলো ভেঙে ফেলা উচিত।        নগরীতে কয়েকশ বছরের পুরোনো ভবন রয়েছে যেখানে মানুষ বসবাস করে। আবার নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত কয়েক হাজার ভবন রয়েছে। সিডিএ এসব ভবনের নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলার জন্য নোটিশ দিলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা জানান, এই অবস্থায় একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা প্রয়োজন। নইলে ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১১ সালে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের জরিপে ১ লাখ ৮০ হাজার ভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত হয়েছিল। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা আরো বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কতটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হালনাগাদ কোনো তথ্য নেই।

সিডিএ সূত্র জানায়, নগরীতে পাকা ভবন নির্মাণে সিডিএর অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক থাকলেও প্ল্যান অনুমোদন না দিয়েও অসংখ্য পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। সিডিএ বছরে প্রায় ১ থেকে দেড় হাজার প্ল্যান অনুমোদন দিচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, নগরীতে প্ল্যান বহির্ভূত নির্মিত প্রায় ৫ হাজার ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভবনের বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলতে সিডিএ থেকে ভবন মালিকদের নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভবন মালিকরা নোটিশের কোনো তোয়াক্কা করছে না।

২০০৪ সালে ৭০/৮০টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলতে বলা হয়েছিল। এসবের  মধ্যে অধিকাংশ বিল্ডিং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। সিটি করপোরেশন ভাঙার উদ্যোগ নিলেও মামলা জটিলতায় অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।

সিডিএর প্রধান পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী শাহীনুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, সিডিএর কাজ প্ল্যান অনুমোদন ও মনিটরিং করা। সেটি যথাযথ হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। পরবর্তী পদক্ষেপ নিবে সিটি করপোরেশন। আমরা নকশা বহির্ভূত প্রায় ৫ হাজার ভবন চিহ্নিত করেছিলাম। তাদের বর্ধিত অংশ ভেঙে ফেলতে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। বেশি ভাগ স্থাপনার মালিক সিডিএর নির্দেশ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সিডিএ বছরে ১ থেকে দেড় হাজার ভবনের প্ল্যান অনুমোদন দিচ্ছে।’

চুয়েটের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম ইত্তেফাককে বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চল ভূমিকম্পের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। রিখটার স্কেলে ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ভূমিকম্পের ভয়াবতা কমাতে দ্রুত বিল্ডিং নিয়ে জরিপ করা প্রয়োজন। চট্টগ্রাম বন্দরও ভূমিকম্পের জন্য নিরাপদ না। প্রকল্প গ্রহণ করে বন্দরে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কর্ণফুলী নদীর নিচে একটি ভূমিকম্প সৃষ্টিকারী লাইন রয়েছে। যদিও একটি এখন সক্রিয় নয়। তারপরও আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে’।