বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন সংক্রান্ত সব তথ্য চেয়েছে হাইকোর্ট। আগামী দুই মাসের মধ্যে এ সংক্রান্ত তথ্য আদালতে দাখিল করতে বিবাদীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। এছাড়া জাতীয় শোক দিবসের ভাব-গাম্ভীর্যকে ক্ষুণ্ন করায় এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন হিসেবে বিভিন্ন তারিখের উল্লেখ থাকায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে রিটকারী পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট নাহিদ সুলতানা যুথী, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার ও অরবিন্দ কুমার রায় এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবী এম মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানি করেন।
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এ রিট করেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মামুন অর রশিদ।
শুনানিতে নাহিদ সুলতানা যুথী বলেন, খালেদা জিয়া একেক জায়গায় একেক রকম জন্ম তারিখ দিয়েছেন। বিয়ের কাবিনামা অনুসারে জন্ম তারিখ ১৯৪৪ সালের ৯ আগস্ট। পাসপোর্ট অনুসারে জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট। আর জন্মদিন পালন করেন ১৫ আগস্ট। এছাড়া করোনা টেস্টের ফর্মে জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছে ৮ মে ১৯৪৬।
এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমরা যতটুকু জানি এটা নিয়ে একটা সিভিল (দেওয়ানি) মামলা হয়েছিল। সেটার কি হয়েছে, জানা আছে? বিপুল বাগমার বলেন, এ কারণে একটা রুল দেন। আরো কিছু যদি থাকে একসঙ্গে সব শুনানি হতে পারে।
আদালত বলে, রিট আবেদনে যাদেরকে বিবাদী করেছেন তারা কি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে খুবই অনিচ্ছুক। যার কারণে আপনাদের কোর্টে আসতে হলো। নিম্ন আদালতে তো মামলা করতে পারেন।
অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ঐ তারিখে জন্মদিন পালন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। উনার কয়টা জন্ম তারিখ আছে সেটা আসুক তারপর আদালত সিদ্ধান্ত দিক।
মাহবুব উদ্দিন বলেন, খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এসব বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করার উদ্দেশ্য কি। এর উদ্দেশ্য হলো তারা সুপ্রিম কোর্টকে ব্যবহার করছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট সারা দেশে হাজার হাজার ছেলে-মেয়ের জন্ম হয়েছে। বর্তমানেও হচ্ছে। তাহলে কি তাদের সকলের জন্ম তারিখ পরিবর্তন হয়ে যাবে?
এ পর্যায়ে আদালত বলে, ১৫ আগস্ট যে কারো জন্ম দিন বা মৃত্যু দিন হতে পারে। কিন্তু রিটকারীর প্রশ্ন হলো যেভাবে কেক কেটে জন্মদিন পালন বা ভিন্ন ভিন্ন জন্ম তারিখ ব্যবহার করা নিয়ে। এরপরই হাইকোর্ট তথ্য প্রদানের নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করে।
