কবিতার পাণ্ডুলিপি

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২০:৩০

g  জোবায়ের রাজু

 

নাদিয়া আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। এই মেয়েটির প্রতি আমার অন্যরকম আগ্রহ থাকার কারণ হলো তার কবিতা লেখার হাত। নাদিয়া লেখালেখি করে। দারুণসব কবিতা ফেসবুকে পোস্ট করে গাঁও-গেরামের এই মেয়েটি। আমি খুব যত্ন করে নাদিয়ার কবিতাগুলো পড়ি।

দেশজুড়ে চলছে বইমেলা। আমার ফেসবুকের অনেকের বই প্রকাশিত হবে বলে তারা ফেসবুকে এই নিউজ জানাচ্ছে। প্রকাশনীর নাম আর বইয়ের সেসব প্রচ্ছদ দেখে আমারও খুব লোভ হলো বই প্রকাশের। কিন্তু কিভাবে তা সম্ভব, আমি যে লেখালেখি পারি না। অনেক চেষ্টা করেছি, তবুও কলম থেকে লেখা বের হয় না। অন্যদিকে বই প্রকাশের তৃষ্ণায় দিন দিন যেন মরে যাচ্ছি।

হঠাত্ নাদিয়ার কথা মনে হলো। আচ্ছা নাদিয়ার ফেসবুকের পোস্ট করা ওসব কবিতা সংগ্রহ করে পাণ্ডুলিপি বানিয়ে কোনো প্রকাশকের হাতে তুলে দিলে কেমন হয়! হ্যাঁ, আমাকে তাই করতে হবে। নাদিয়া জানতে পারবে না। মেয়েটি গ্রামের সাধারণ এক মেয়ে। বইমেলায় কী বই বের হয়েছে কী হয়নি, এসব তার জানার কথা না।

রাতেই নাদিয়ার টাইমলাইনে ঘুরে পছন্দ করে মোট বিশটি কবিতা সংগ্রহ করেছি। সেই বিশটি কবিতা দিয়ে পাণ্ডুলিপি বানিয়ে ফেললাম রাত জেগে। তিনদিন পর ‘সরল রেখা’ প্রকাশনীর কর্ণধার মফিজ ভাইয়ের মগবাজারের অফিসে গেলাম পাণ্ডুলিপি নিয়ে। মফিজ ভাই অন্যদের পাণ্ডুলিপি নিয়ে ব্যস্ত। আমাকে বললেন, ‘পাণ্ডুলিপি রেখে যান, আর আপনার ফোন নম্বর দিয়ে যান।’

 

২.

চারদিন পর দুপুরে আমার নম্বরে মফিজ ভাইয়ের কল, ‘আপনি একটু বিকেলে আমার অফিসে আসতে পারবেন?’

ওহ মাই গড! আমার কপাল খুলে গেছে। নিশ্চয়ই মফিজ ভাই আমার পাণ্ডুলিপি পছন্দ করে বই প্রকাশের কথা জানাবেন। উচ্ছ্বাস মাখানো গলায় বললাম, ‘অবশ্যই পারব। আমি এখনই আসব।’

মফিজ ভাইয়ের মগবাজারের অফিসে গিয়ে দেখি তিনি বসে বসে ফেসবুক গুঁতাচ্ছেন। আমাকে বললেন, ‘চেয়ারে বসুন।’ আমি বসলাম। বললেন, ‘এভাবে পাগলামি করার মানেটা কী?’ মফিজ ভাইয়ের কথার আগামাথা বুঝলাম না। কখন আবার পাগলামি করলাম! আমাকে নিরব থাকতে দেখে মফিজ ভাই বললেন, ‘শোনেন ভাই, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা কেবল আপনি একাই পড়েন না। আমরাও পড়ি।’ এবারও মফিজ ভাইয়ের কথার আগামাথা বুঝলাম না। রবীন্দ্রনাথের কথা এলো কেন? বললাম, ‘ভাইয়া, বুঝলাম না আপনার কথা।’ তিনি রেগে বললেন, ‘আপনি রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতা কাব্যগ্রন্থ থেকে বিশটি কবিতা দিয়ে পাণ্ডুলিপি বানিয়ে আমাকে দিয়েছেন কেন? রবীন্দ্রনাথের লেখা কি শুধু আপনিই একা পড়েন? মিয়া লেখা চোর কোথাকার!’

বুঝলাম ঘটনা। নাদিয়া রবীন্দ্রনাথের কবিতা ফেসবুকে পোস্ট দেয়। আর আমি সেটা নাদিয়ার লেখা ভেবে...। মফিজ ভাইকে বললাম, ‘আমি কি এখন চলে যাব?’ মফিজ ভাই মেজাজ খারাপ করে বললেন, ‘বইমেলা চলছে। অন্যদের পাণ্ডুলিপি নিয়ে বেশ ঝামেলায় সময় পার হচ্ছে। এরই মধ্যে আপনি এমন রসিকতা করতে এসেছেন। দশবার কান ধরে উঠবস করেন। করেন বলছি!’

মফিজ ভাই রাগে সিংহ পুরুষ হয়ে উঠলেন। তো কী আর করা! দশবার তার সামনে কান ধরে উঠবস করে বের হয়ে চলে এলাম।

রাতে ফেসবুকে নাদিয়াকে এই প্রথম মেসেজ দিলাম, ‘রবীন্দ্রনাথের সঞ্চয়িতা আপনার খুব প্রিয়, না?’ নাদিয়া রিপ্লাই দিলো, ‘অবশ্যই। দেখেন না সঞ্চয়িতা থেকে কত কবিতা আমি টাইমলাইনে পোস্ট করি। আপনারও নিশ্চয়ই আমার মতো সঞ্চয়িতা পছন্দের, তাই বুঝতে পেরেছেন আমার পোস্ট করা লেখাগুলি সঞ্চয়িতা থেকে চয়ন করা!’

আমিশাপাড়া, নোয়াখালী।