পঞ্চম শ্রেণির বাংলা পড়াশোনা

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ১৯:৫৯

মিরাজুল ইসলাম, প্রভাষক

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ

 

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ১ ও ২ নং ক্রমিকের প্রশ্নের উত্তর লিখ:

মানুষ তখন একটু একটু করে সভ্য হচ্ছে। কী করে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকা যায়, শিখছে সেইসব কায়দাকানুন। ও দিকে বনে বনে তখন পশুদের রাজত্ব। হাজার রকমের প্রাণী, অসংখ্য পাখ-পাখালি। বেশ শান্তিতেই কাটছিল বনের পাখি আর প্রাণীদের দিনগুলো। কিন্তু একদিন হলো কি তাড়া খেয়ে মস্ত একটা হাতি এই বনে ঢুকে পড়ল। হাতিটার সে কী বিশাল শরীর। পাগুলো বট পাকুড় গাছের মতো মোটা। শুঁড় এতটাই লম্বা যে আকাশের গায়ে গিয়ে বুঝি ঠেকবে। তার গায়েও অসীম জোর। এই শরীর আর শক্তি নিয়েই তার যত অহংকার। মেজাজটাও দারুণ তিরিক্ষি। তো যেই-না হাতিটার ঐ বনে ঢোকা, অমনি শুরু হয়ে গেল তোলপাড়। নতুন অতিথি এসেছে, সবাই স্বাগত জানাবার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। কিন্তু এই দুষ্টু হাতিটার সে-কী তুলকালাম কাণ্ড! খুব জোরে গলা ফাটিয়ে দিল প্রচণ্ড একটা হুঙ্কার। থরথর করে কেঁপে উঠল সমস্ত বন। গাছে গাছে পরম নিশ্চিন্তে বসেছিল পাখি, তারা ভয়ে ডানা ঝাপটাতে শুরু করল।

১. নিচের যেকোন পাঁচটি শব্দের অর্থ লিখ:

ক. মেদেনী   খ. অবলীলায় গ. তিরিক্ষি 

ঘ. তুলকালাম কাণ্ড  ঙ. হুঙ্কার  চ. শক্তিধর

ছ. অত্যাচার

২. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর লেখ:

ক. হাতিটা দেখতে কেমন ছিল? দুটি বাক্যে লিখ।                                                    

খ. বনে ঢুকে প্রচণ্ড হুঙ্কার দিয়েছিল কে? পাখিরা কেন ডানা ঝাপটাতে শুরু করল? তিনটি বাক্যে লিখ।                                                

গ. হাতি বনে ঢুকে কী ধরনের আচরণ শুরু করেছিল? শেষ পর্যন্ত হাতির কী পরিণতি হয়েছিল?                                

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪ নং ক্রমিকের প্রশ্নের উত্তর লিখ:

বিজ্ঞানের যে সব আবিষ্কার মানবজীবনকে সমৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত করেছে তার মধ্যে বিদ্যুতের অবদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুত্ দৈনন্দিন জীবনকে করে তুলেছে সহজ-সরল, আরাম-আয়েশে পরিপূর্ণ ও গতিময়। বিদ্যুতের বিচিত্র প্রয়োগ মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে সহজ করে দিয়েছে। বিদ্যুতের কল্যাণে সমস্যা জর্জরিত মানবজীবন হয়ে উঠেছে অনেক সুখকর, উপভোগ্য। কিন্তু বিদ্যুত্ ঘাটতি মানুষের জীবনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উত্পাদন কম হলে এক এলাকার বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ রেখে অন্য এলাকায় বিদ্যুত্ সুবিধা দেওয়াকে লোডশেডিং বলে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবনে ভয়াবহ দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে শিল্পের উত্পাদন ব্যাহত হয়ে রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। বিদ্যুত্ ঘাটতির ফলে জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। লোডশেডিং এর ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘ্নিত হয়। লোডশেডিংয়ের সুযোগে বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ডাকাতির মতো অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যায়। বিদ্যুত্ হচ্ছে একটি দেশের উন্নয়নের মূল উত্স। কাজেই লোডশেডিং বা বিদ্যুত্ বিভ্রাট রোধ করতে হবে। এ অবস্থার প্রতিকারের জন্য নতুন নতুন বিদ্যুত্ ইউনিট চালু করতে হবে, বিদ্যুতের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, বিদ্যুতের অপব্যবহার রোধ করতে হবে। সৌরশক্তি, তাপশক্তি, গ্যাস, কয়লা ইত্যাদিকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন বাড়াতে হবে। সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে লোডশেডিং নিরসন করে বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

৩. নিচে কয়েকটি শব্দ ও শব্দার্থ দেওয়া হলো। উপযুক্ত শব্দটি বাছাই করে বাক্যগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করে উত্তরপত্রে লিখ:

শব্দ                                                        শব্দার্থ    

ভয়াবহ ভয়ংকর

আবিষ্কার    উদ্ভাবন

উন্নয়নে      উন্নতি সাধনে

নেতিবাচক  খারাপ

 দৈনন্দিন    প্রতিদিন

লোডশেডিং বিদ্যুত্ বিভ্রাট

ক. লোডশেডিংয়ের কারণে মানবজীবনে ভয়াবহ দুর্ভোগ দেখা দেয়।

খ. একটি দেশের উন্নয়নে বিদ্যুত্ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গ. বিদ্যুত্ ঘাটতির নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতে পড়ে।

ঘ. বিজ্ঞানের আবিষ্কার মানবসভ্যতাকে গতিশীল করেছে।

ঙ.  দৈনদিন জীবনে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে।     পরের অংশ আগামীকাল