করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের কবল থেকে বের হয়ে আসতে থাকা ভারতে টানা আট দিন ধরে দৈনিক শনাক্ত ১ লাখের নিচে রয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালের আগের ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৬০ হাজার ৪৭১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা গত আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এনডিটিভি।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কায় দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল, এই অভিজ্ঞতা সামনে রেখে সংক্রমণের সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দেশটির রাজ্যগুলো শক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে। নতুন সংক্রমণের সংখ্যা কমে আসায় দিল্লি, হরিয়ানাসহ আরো কয়েকটি রাজ্য লকডাউনজনিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গে জারি থাকা লকডাউনের মেয়াদ আরো দুই সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। একই দিন ভারতে আরো ২ হাজার ৭২৬ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে দেশটির কোভিড-১৯ জনিত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। এপ্রিলের প্রথম দিকে দেশ জুড়ে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে শুরু করে। ৭ মে সকালের পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৪ লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি রোগী শনাক্ত হওয়ার মধ্যে দিয়ে দৈনিক শনাক্তের বিশ্ব রেকর্ড করে দেশটি। এরপর থেকে রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করার পর গতকাল আড়াই মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম রোগী শনাক্ত হলো। টানা আট দিন ধরে দেশটিতে পজিটিভের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত রোগীর হার ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছিল।
নতুন সংক্রমণের সংখ্যা কমে আসায় দিল্লি, হরিয়ানাসহ আরো কয়েকটি রাজ্য লকডাউনজনিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। টিকা কর্মসূচির আওতায় ভারত জুড়ে এ পর্যন্ত ২৫ কোটিরও বেশি ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে ১০৮ কোটিরও বেশি বাসিন্দাকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটি। ২০১৯ সালের শেষ দিকে চীনের উহানে প্রথম করোনা ভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্ব জুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ কোটি ছাড়িয়ে গেছে আর মৃত্যু হয়েছে ৩৮ লাখেরও বেশি মানুষের।
