মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মোহাম্মদ ইউসুফ, মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
৫০ শয্যাবিশিষ্ট মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকসহ জনবল সংকটে স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। জানা গেছে, কয়েক জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ৬৯ জন কর্মচারীর পদও শূন্য। বর্তমানে হাসপাতালে যেসব চিকিত্সক পদায়ন আছেন তার মধ্যে সাত জন করোনাকালীন সময়ে অনত্র্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া দুই জন চিকিত্সক মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন।
জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক ও ৩য়-৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ শূন্য থাকার পাশাপাশি বর্তমানে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ হাসপাতাল চত্বরে গভীর নলকূপ স্থাপন করলেও বর্তমানে সেটাতে তেমন পানি উঠছে না। ২০১২ সালে নষ্ট হওয়ার পর হাসপাতালে নতুন এক্সরে মেশিন কেনা হয়নি। পুরাতনটা কয়েক বার মেরামত করা হলেও এখন তা আর ব্যবহার হচ্ছে না। এছাড়া হাসপাতালে ভবন সংকটও দেখা দিয়েছে। রোগী থাকার জন্য ভবনের পাশাপাশি চিকিত্সক ও কর্মচারীদের জন্য উপযুক্ত আবাসন ব্যবস্থা নেই।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৬ জন মঞ্জুরীকৃত চিকিত্সকের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত্ জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিকস), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চর্ম ও যৌন), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু), জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি), সহকারী সার্জন (অ্যানেসথেসিস্ট), এক জন সহকারী সার্জন, ছয় জন মেডিক্যাল অফিসারের পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩য় শ্রেণির কর্মচারীর মধ্যে ক্যাশিয়ার পদে এক জন, ভান্ডাররক্ষক পদে এক জন, চিকিত্সা সহকারী পদে ১০ জন, ফার্মাসিস্ট পদে সাত জন, কমপাউন্ডার পদে এক জন, সহকারী নার্স পদে এক জন, মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান পদে তিন জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে এক জন, স্বাস্থ্য সহকারী পদে ২৬ জনের পদ শূন্য রয়েছে। ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীর মধ্যে ল্যাব. অ্যাটেনডেন্ট পদে এক জন, এমএলএসএস পদে ৯ জন, ওয়ার্ডবয় পদে দুই জন, আয়া পদে এক জন, কুক পদে এক জন, নিরাপত্তা প্রহরী পদে দুুই জন, ঝাড়ুদার পদে এক জনের পদ শূন্য রয়েছে।
উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়ন থেকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা নিতে আসা খালেদা বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন যাবত্ আমার ছেলের শরীরে এলার্জিজনিত চুলকানি দেখা দেয়। ডাক্তার দেখানোর জন্য হাসপাতালে গিয়ে দেখি চর্ম রোগের কোনো ডাক্তার নেই। পরে প্রাইভেট চেম্বারে নিয়ে ছেলেকে ডাক্তার দেখাই।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘হাসপাতালে বর্তমানে খাওয়ার পানির সংকট রয়েছে। গভীর নলকূপ বসানো হলেও এখন সেটাতে পানি উঠছে না। হাসপাতালে ভবন সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। চিকিত্সক ও কর্মচারীদের থাকার জন্য উপযুক্ত আবাসন নেই। হাসপাতালের ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির পর্যাপ্ত পরিমাণ কর্মচারী না থাকায় চিকিত্সকরা চিকিত্সাসেবা দিতে অনেক হিমশিম খাচ্ছেন। অফিস পরিষ্কার করার জন্য আয়া, সুইপার, নিরাপত্তা প্রহরী নেই। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদের চিকিত্সকও সংকট রয়েছে। এসব বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন অফিসে জানানো হয়েছে।
