জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আমরা এক বিশেষ সময়কাল অতিক্রম করছি। করোনা-জঙ্গি-দুর্নীতি এই তিন ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। করোনা প্রাণঘাতী, অর্থনীতিকে অচল ও জীবন-জীবিকার সংকট তৈরি করছে। জঙ্গিবাদ রাষ্ট্রের ভিত্তিকে আঘাত করছে, সমাজে অশান্তি ও অস্থিরতা তৈরি করছে। আর দুর্নীতি উন্নয়নের সুফল খেয়ে ফেলছে, বৈষম্য বাড়াচ্ছে। এই তিন ভাইরাসের কোনোটিকেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। এই তিন ভাইরাস পুষে রেখে জীবন বাঁচবে না, জীবিকাও হবে না। এই তিন ভাইরাস দমন ও ধ্বংস করেই এগুতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ইনু বলেন, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও তেঁতুল তত্ত্বের ভাইরাস রাজনৈতিক দল, সরকার, প্রশাসন এমনকি সংসদের মধ্যেও সংক্রমিত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক পরিচালক করোনা মোকাবিলার কাজ বাদ দিয়ে মেয়েদের টাকনুর নিচে এবং ছেলেদের টাকনুর ওপরে পোশাক পরার নির্দেশ দেন। আর আমার সংসদের সহকর্মীরা, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদের স্থায়ী কমিটির সভায়, মুক্তিযোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান অনুষ্ঠানে নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে আপত্তি জানালেন। আরেকদিকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিএনপি তার পুরাতন স্বভাব ও চরিত্র নিয়ে এই তিন ভাইরাস নিয়ে ষড়যন্ত্রের অপরাজনীতি খেলে চলেছে। দেশে টিকা উত্পাদনের ব্যবস্থা করে এক বছরের মধ্যে সবাইকে টিকা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
রাডার কেনা প্রসঙ্গ টেনে জাসদ সভাপতি বলেন, দুর্নীতির একটি ভয়ংকর খবর জানা গেছে সাম্প্রতিককালে। ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা দিয়ে রাডার কেনার সব আয়োজন সম্পন্ন হয়। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে সেই রাডার কেনা হয়েছে মাত্র ৬৩০ কোটি টাকায়। কারা এই টাকা লুটপাট করে খাওয়ার আয়োজন করেছিল, এত হাত ঘুরে কেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার পর চুরির ঘটনাটি ধরা পড়ল?
প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ইনু বলেন, সুযোগ ছিল করোনা মোকাবিলার যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের কৌশলগত সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার সুস্পষ্ট ছক করার। কিন্তু তা করা হয়নি। খাতওয়ারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর অগ্রাধিকার নির্ণয় ‘সঠিক’ হলেও বরাদ্দের পরিমাণ ‘বেঠিক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাসদ সভাপতি আরো বলেন, স্বাস্থ্যখাতে সুশাসনের কোনো বালাই নেই। এখাতে কেবলই দুর্নীতির খবর। প্রাপ্ত বরাদ্দও খরচ করতে পারে না। যেটুকু খরচ করেছে তাতে দুর্নীতির বদনামই কামিয়েছে।
