গ্রামের বাড়ি পাবনা হলেও এসএম সাম্মাম শক্তি ইবনে শাহাদাতের বেড়ে ওঠা ঢাকার ক্যান্টনমেন্টে। শিক্ষাজীবন শুরু মিরপুরের শহীদ পুলিশ স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজে। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সেই একই প্রতিষ্ঠানে। বাবা ছিলেন গণিতের প্রভাষক। বিজ্ঞানের প্রতি ভালোবাসাটা মূলত সেখান থেকেই।
বাবা-মার স্বপ্ন ছিল ছেলে ডাক্তার হবে—কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার কিছুদিন আগে তার বাবা মারা যান। এইচএসসি পরীক্ষার ফল কিছুটা খারাপ হলে ডাক্তারি পড়ার সুযোগটাও হাতছাড়া হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া একটি লিফলেট তার জীবনের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। স্কলারশিপ পেয়ে ভর্তি হন ভারতের লাভলি প্রফেশলান ইউনিভার্সিটিতে স্নাতকে, বিষয় যন্ত্র-প্রকৌশল। নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের হাওয়ার্ড স্মাইলস অরগানাইজেশনের মাধ্যমেই জানতে পারেন ‘ভিশনারি লিডার’ অ্যাওয়ার্ডের কথা। সেখান থেকেই স্বপ্ন শুরু— একদিন এই অ্যাওয়ার্ড পাবেন তিনিও। এছাড়াও বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন ‘আইসেক’-এ কাজ করার সুযোগও হয়েছে তার।
অবশেষে স্বপ্ন সত্যি হয়েছে সাম্মামের; চতুর্থ বার্ষিক আইএসআইইএনডিআইএ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাকে ‘ভিশনারি লিডার’ সম্মাননা দেওয়া হবে। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের সেঞ্চুরিয়ান ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ম্যানেজমেন্টে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। সাম্মামকে এই পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে ভারতের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি (এলপিইউ)। কারণ এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘের প্রচারে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন সাম্মাম।
একাডেমিক সফলতা, অসাধারণ কাজ, অনুকরণীয় পেশাগত সেবা ও ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের জন্য প্রতিবছরই ইম্পেরিয়াল সোসাইটি অব ইনোভেটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স আইএসআইইএনডিআইএ এই পুরস্কারের জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে নির্বাচিত করে। এলপিও’র শিক্ষার্থী হিসেবে এই প্রতিষ্ঠান থেকে সামাজিক সেবাসহ এসডিজি’র সবগুলো কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন সাম্মাম।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিতরণ সংগঠন কিডস রাইটার্সের সাপোর্টে ‘এডুকেশন ফর অল’ নামে বিশ্বের ১৩টি দেশে একটি প্রজেক্ট নিয়েছেন সাম্মাম। এই ১৩টি দেশের প্রত্যেকটি দেশের জনগণের শিক্ষার হার শতভাগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ তাদের। মূলত যারা পড়ালেখা করতে চায় কিন্তু অর্থের অভাবে করতে পারে না তাদের পাশে দাঁড়াবে ‘এডুকেশন ফর অল’ নামক সংস্থাটি।
সম্প্রতি ‘ইউএনআইটিই ২০৩০: ইয়ুথ অ্যাকশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ডে’ প্রশংসনীয় কাজের জন্য তিনি ‘সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক তরুণ অ্যাকটিভিস্ট ও বৈশ্বিক তরুণ নেতা’ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। স্বপ্ন দেখেন একদিন নাসার স্পেস ইঞ্জিনিয়ার হবেন। আর সেই লক্ষেই এগিয়ে যাচ্ছেন সাম্মাম।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি
