এক সেকেন্ডের জন্য চোখ ফেরানো যায়নি যে ম্যাচে

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ২১:১০

ফাইনালের উত্তাপ ছিল ফ্রান্স-জার্মানির লড়াইয়ে

 স্পোর্টস রিপোর্টার

ইউরো কাপে যে কয়টি দেশ নিয়ে বাংলাদেশের ঘরে মাতামাতি হয় এর মধ্যে ফ্রান্স জার্মানি ম্যাচ সব সময় একটু আলাদা, একটু বেশি আদরণীয়। ইউরোর সবচেয়ে উত্তেজনাকর ম্যাচ দেখেছেন দর্শক। ডেথ গ্রুপে ফ্রান্স জার্মানির লড়াই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা একটি ম্যাচ। ২০ মিনিটে আত্মঘাতী গোলে ফ্রান্স হারিয়েছে জার্মানিকে। সেই গোল আর জার্মানি ফিরিয়ে দিতে পারেনি।

ইউরো ফুটবলে সবচেয়ে  উত্তেজনাকর খেলাটি দেখেছেন দর্শক। ডেথ গ্রুপের খেলা। এক ম্যাচ হারলে সেই পয়েন্ট পূরণ করা সম্ভব না। জার্মানির সর্বনাশ হয়েছে আত্মঘাতী গোল হজম করে। গোলের সুযোগ যে পায়নি জার্মানি, এ কথা বলা যাবে না। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম নানা পরিকল্পনা করেছেন তার কাছে যান্ত্রিক ফুটবলের জার্মানি কোচ জোয়াকিম লো পারলেন না।

জার্মানিকে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন কোচ জোয়াকিম লো। ২০১৮ সালে ফ্রান্সকে রাশিয়া বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন দিদিয়ের দেশম। সেই ফুটবল পণ্ডিতের লড়াইটা কতখানি উত্তেজনার হতে। এটা কি শুধুই ফুটবল নাকি ফুটবল নামে ১২০ গজের যুদ্ধ। এক সেকেন্ডের জন্য চোখ ফেরানো যায়নি যে ম্যাচে। যারা মঙ্গলবার রাত জেগে খেলা দেখেছিলেন তারা টিভির রিমোর্ট হাতছাড়া করেননি। ম্যাচের শেষ ছবিটাও দেখেছেন। ১-০ গোলে পিছিয়ে জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ের ৫ মিনিট গড়িয়ে যায়, জার্মান কোচ জোয়াকিম লো ছিলেন বেঞ্চে বসে। মাথা ঘুরিয়ে। ম্যাচে তার যেন আগ্রহ নেই। ডাগ আউটে ফরাসি কোচ দেশম ম্যাচের শেষ বাঁশির অপেক্ষায়, উত্তেজনায় লাফাচ্ছেন।

২০১৬ সালের ইউরো কাপের সেমিফাইনালে জার্মানিকেই ২-০ হারিয়েছিল ফ্রান্স। জোড়া গোল করেছিলেন গ্রিজম্যান। এবার আরো  বেশি শক্তিশালী ফ্রান্স। কারণ, কিলিয়ান এমবাপে, করিম বেঞ্জামার মতো ভয়ংকর দুই স্ট্রাইকার রয়েছে দলে। নেপথ্যে রয়েছে দিদিয়ে দেশমের মতো অসাধারণ ফুটবল কোচের মস্তিষ্ক। ফরাসি কোচের নিখুঁত চালে জার্মানি বল দখলের লড়াইয়ে অনেক এগিয়ে থেকেও  জিততে পারল না। জোয়াকিম লোর কষ্টটা এখানেই।

ম্যাচের ২০ মিনিটে পগবার বল ঠেলেছিলেন লুকাস হার্নান্দেজকে। বায়ার্ন মিউনিখের এই ডিফেন্ডার জার্মানির পেনাল্টি বক্সের মধ্যে এমবাপের উদ্দেশে বল ছাড়েন। জার্মানির ম্যাটস হুমেলস বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজের জালে জড়িয়ে দেন।

আত্মঘাতীর গোলটার হিসাব বাদ দিলেও ফ্রান্স দুই বার গোলের সুযোগ পেল সেটি বাতিল করলেন রেফারি।

ভয়ংকর স্ট্রাইকার এমবাপে। ক্ষীপ্রগতির দৌড় কোনোভাবেই আটকানো যায় না। এমবাপে জার্মানির দুই ডিফেন্ডারকে ডজ দিয়ে শট করলেন বল পোস্টের গোড়ায় চুমু খেয়ে গোল হলো। কিন্তু বাতিল বাতিল করলেন রেফারি, অফসাইডের কারণ দেখিয়ে।  করিম বেঞ্জামাও গোল করেছিলেন সেটিও অফসাইডে বাতিল হয়। আফসোস নেই ফরাসিদের। ফুটবল যুদ্ধে জার্মানিকে হারিয়েছে।