জেলার ভাসানচরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডায়রিয়ার ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে গত ১৫ দিনে তিন শিশুর মৃত্যু ও বিভিন্ন বয়সি সহস্রাধিক মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল বুধবার জেলার সিভির সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ১৫ দিনে প্রায় ৫০০ ডায়রিয়া রোগীকে ভাসানচরের হাসপাতালে ও অন্যদেরকে বহির্বিভাগে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বর তিন শিশুকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ৪০-৫০ জন রোগী ভাসানচরের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। গতকাল এ হাসপাতালে ২৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। ডায়রিয়ার প্রকোপ সম্পর্কে সিভিল সার্জন কয়েকটি কারণ উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব, গভীর নলকূপের পানি পান না করে রান্না ও ব্যবহারে পানি পান করা ও বেশ কিছু দিন ধরে তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়ার ছড়িয়ে পড়ে। ডায়রিয়া প্রতিরোধে গত তিন দিনে ১০ হাজার খাবার স্যালাইন, ১০ হাজার পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া চিকিত্সা কাজে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবার স্যালাইন (৩৫ হাজার), পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট (৩৩ হাজার), কলেরা স্যালাইন (সাড়ে ৩ হাজার) ও ডায়রিয়ার অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেশন (পর্যাপ্ত পরিমাণ ) মজুত রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন আরো জানান, বর্তমানে ভাসানচরে বসবাসকারী ১৮ হাজার ৩৪৭ জন রোহিঙ্গার স্বাস্থ্যসেবায় ২০ শয্যার একটি হাসপাতাল রয়েছে। এ হাসপাতালে দুজন মেডিক্যাল অফিসারসহ সেবা কাজে ১৪ জনের একটি জনবল রয়েছে। এ স্বল্প জনবল দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিত্সার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতায় স্বাস্থ্য বিভাগের স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মসূচি চালু রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি কার্যত দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে এবং পাঁচটি এনজিও চিকিত্সা সেবা দিয়ে আসছে বলে জানান তিনি।
