সিলেটে মা ও দুই শিশু সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা

আপডেট : ১৬ জুন ২০২১, ২১:৫৪

সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাটে মা ও দুই শিশু সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু দুটির গলা কেটে হত্যা করেছে। আর শিশুদের মাকে বুক, পিঠসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে কুপিয়ে মারা হয়েছে। গৃহকর্তা হিফজুর রহমানের শরীরের একাধিকস্থানে ধারলো অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। তিনি পুলিশের পাহারায় ওসমানী মেডিক্যালে কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তার এখনো জ্ঞান ফেরেনি। জ্ঞান ফেরার পর তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। গতকাল বুধবার সকাল ৭টার দিকে গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রাম থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

নিহতরা হলেন—বিন্নাকান্দি দক্ষিণপাড়া গ্রামের হিফজুর রহমানের স্ত্রী আলেয়া বেগম (২৭), ছেলে মিজান আহমদ (১১) ও মেয়ে তানিসা (৫)।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠতে দেরি দেখে প্রতিবেশীরা হিফজুরের ঘরের সামনে যান। ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে তারা দরজায় ধাক্কা দেন। এ সময় ঘরের দরজা খোলা ছিল। ভেতরে ঢুকে খাটের ওপর তিন জনের গলাকাটা মরদেহ ও হিফজুরকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তারপর তারা পুলিশে খবর দেন। 

এদিকে, গতকাল বিকাল পর্যন্ত পুলিশ এ ঘটনার কোনো ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে সিলেটের ডিআইজি মো. মফিজ উদ্দিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তারা বিকাল পর্যন্ত থেকে ঘটনাস্থল ও তদন্ত কাজ পর্যবেক্ষণ করেন।

আহত হিফজুরের মামা ও কয়েক জন আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে ডিআইজি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় নিয়ে কাজ করছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। ডিআইজি বলেন, হিফজুর যে ঘরে থাকতেন ঐ ঘরটি তার মায়ের পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত। আর পাশের আরো দুটি ঘরে তার মামারা থাকতেন। হিফজুর দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তাদের মামাসহ আত্মীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক কিংবা গ্রেফতার করার হয়নি।

নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, পুলিশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। গৃহকর্তা হিফজুর পুলিশের পাহারায় হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে। তার জ্ঞান ফেরেনি। জ্ঞান ফেরার পর তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যেতে পারে।