ডিজিটাল বিশ্ব যেভাবে রেসের লাগামহীন ঘোড়ার মতো দৌড়াচ্ছে তাতে পরিবর্তন এসেছে জীবনযাত্রার মানে ও কর্মক্ষেত্রে। করোনা অতিমারির সময়ে দক্ষতাহীন মানুষজন একদিকে হারিয়েছেন বেঁচে থাকার অবলম্বন চাকরি অপরদিকে ডিজিটাল দক্ষতা নির্ভর তরুণরা পথ বের করেছেন সম্ভাবনার। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশে বেড়েছে ই-কমার্স ও এফ-কমার্সের ক্ষেত্র।
অনলাইন নির্ভর দক্ষতাগুলোর প্রয়োজনীয়তা বেশ ভালোভাবেই টের পাওয়া যাচ্ছে করোনাকালে। তরুণ প্রজন্ম নিজেদের মেধা আর শ্রম কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়তই উদ্ভাবন করে যাচ্ছেন নতুন নতুন কর্মক্ষেত্রের। বিশ্বব্যাপী সামাজিক মাধ্যম এখন আয়ের অন্যতম বড় উৎস। আগে শুধু ইউটিউব আয়ের বড় উৎস হলেও এখন ফেসবুকও ক্রিয়েটরদের অনেক বড় একটা সুযোগ করে দিয়েছে আয় করার।
কেউ কেউ ভ্লগিং করছেন, কেউবা করছেন ডিজিটাল আঁকিবুঁকি আর কেউ মার্কেটিং। দৈনন্দিন কাজের পাশাপাশি অল্প কিছু সময় দক্ষতার সঙ্গে এসব মিডিয়াতে সময় দিয়ে সফলতার মুখ দেখছেন অনেকেই।
তেমনি একজন ঢাকার মেয়ে ফাবিয়া হাসান মনিষা, অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স থেকে মাস্টার্স শেষ করে গত দুই বছর ধরে একটা কোম্পানিতে জব করছেন। কিন্তু স্বামীর ইচ্ছা ও জোড়াজুড়িতেই ইউটিউব ভ্লগিংয়ে আসেন। শুরু করেন ফুড ভ্লগিং। অফিস করার পর সপ্তাহে ছুটির দিনগুলোতে সময় দিতেন ভ্লগিংয়ের পেছনে। শুরুর দিকে একরকম নিজের অনিচ্ছাতেই করতেন স্বামীর আবদারে, কিন্তু আস্তে আস্তে কাজের প্রতি ভালোলাগা শুরু হয়ে যায় ফাবিয়ার। মন থেকেই ভালোলাগা চলে আসে ভ্লগিংয়ে। কর্পোরেট লাইফের পাশাপাশি এখন ইউটিউবে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
নিজের পরিবার ও শ্বশুরবাড়ি থেকে সম্পূর্ণ সমর্থন পেয়েছেন ফাবিয়া। মা-বাবার আগ্রহটা যেনো ছিলো সবার উর্ধ্বে। দুই পরিবার আর স্বামীর সর্বোচ্চ ভালোবাসা ও সমর্থনে নিয়মিত ভিডিও বানাতে শুরু করেন ফাবিয়া। তবে একজন মেয়ে হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে পথচলাটা মসৃণ ছিল না ফাবিয়ার। যদিও দুই পরিবার থেকে সর্বোচ্চ সমর্থন পেয়েছেন কিন্তু স্যোশাল মিডিয়া বুলিং থেকে রক্ষা পাননি। ফাবিয়ার পেইজে সবসময় বুলিং সমৃদ্ধ মন্তব্য আসতো। কিন্তু কখনো কারো সঙ্গে খারাপ আচরণে যাননি তিনি। সবসময় চেষ্টা করেছেন ইতিবাচক উত্তর দিতে। হাসিমুখে এ সমস্ত ‘হেইট স্পিচ’ -এর মোকাবিলা করেছেন।
ফুড আপ্পি ফাবিয়া ব্যতিক্রম এদিক দিয়ে। তথাকথিত হেটার্সদের সবসময় বেশিই সম্মানের চোখে দেখেন তিনি। তাদের মন্তব্যে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে সেগুলা নিয়ে ভাবেন, নিজের ভুল ত্রুটি থাকলে পরের ভিডিওতে সেগুলা শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
চ্যানেলের নাম কেনো ফুড আপ্পি হলো সে সম্পর্কে ফাবিয়া বলেন, ‘একদিন রাত ১২ টায় আমি আর আমার স্বামী সংসদ ভবনের সামনে ফুচকা চটপটি খাচ্ছিলাম তখন দোকানের মামা আমাকে আপ্পি আপ্পি বলে ডাকছিলো। সেখান থেকেই ফুড আর আপ্পির আইডিয়া নিয়ে আমার স্বামী নাম রেখেছেন ‘ফুডআপ্পি’।
ফুডআপ্পি নিজেই শুধু উপার্জন করেন না, তার এখানে কাজ করেন দুইজন এডিটর। তাদের ও একটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পেরে সন্তুষ্ট ফাবিয়া। চাকরির মাধ্যমে শুধু নিজে উপার্জন করা যায়, কিন্তু কাউকে কর্মের সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হয়না। নিজের ভ্লগিং চ্যানেলের জন্য দুইজন এডিটরকে একটা কাজের সুযোগ দিতে পেরেছেন এটা যেনো পরম আনন্দের ফাবিয়ার কাছে।
ফাবিয়ার স্বপ্ন সেরা ভ্লগার হওয়ার। দেশ বিদেশের নানা জায়গার নানা রকমের খাবারের স্বাদ ও সৌন্দর্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে চান ভিডিওর মাধ্যমে। নতুন নতুন খাবারের সন্ধান দেওয়ার পাশাপাশি নতুন জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ইতিহাস তুলে ধরতে চান ভিডিও বার্তায়। শুধু তাই নয়, ভিডিও বানানো শেষে রাস্তার পাশে পরে থাকা সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় মানুষদের মুখেও খাবার তুলে দেন নিজের সাধ্যমতো।
