টানা ষোলটি বছর রিয়াল মাদ্রিদের রক্ষণের দেওয়াল আগলে রেখেছিলেন অধিনায়ক সার্জিও রামোস। তাকে নিয়ে কখনোই মনে করা হয়নি চলে যাবেন। রামোস ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের ছেলে। তাকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল না রিয়ালের কর্মকর্তাদের। সময়টা খুব খারাপ। কারণ সেই রামোসকে এবার ঘর ছেড়ে চলে যেতে হচ্ছে। যদি আরো ভেঙে বলা যায়, তাহলে বলতে হয় রিয়াল মাদ্রিদ রামোসকে রাখছে না।
রামোস এবং তার ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যে চুক্তি হয়নি। অথচ দুই পক্ষই একমত ছিল। রামোস থাকতে চেয়েছিলেন ক্লাবও রাখতে চেয়েছিল। তাহলে আটকে গেল কোথায়। এক হচ্ছে করোনায় রামোসের পারিশ্রমিক কমেছে। তার ওপর রিয়াল মাদ্রিদ রামোসের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি করতে চায়। আর রামোস বলছে দুই বছরের চুক্তি করতে হবে। ব্যাস ওখানেই বাধল গন্ডগোল। এই ছোট্ট প্যাঁচটা খুলতে পারেনি রামোস এবং রিয়াল মাদ্রিদ। ৩৫ বছর বয়সি রামোস সিদ্ধান্ত নিলেন দল ছাড়বেন। আর রিয়াল মাদ্রিদও আনুষ্ঠানিক বিদায়ের মঞ্চ প্রস্তুত করল। ৩০ জুন শেষ হবে চুক্তি। দুই সপ্তাহ আগেই বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করল দুই পক্ষই। স্টেডিয়াম সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে খোলা মাঠে আয়োজিত রামোসের বিদায়ি অনুষ্ঠানে সমবেত হলেন ক্লাব কর্মকর্তারা। রামোসের স্ত্রী সন্তান, শুভাকাঙ্ক্ষিরা। বিদায়ের আবেগঘন অনুষ্ঠানে অনেকের চোখের পানি গড়িয়ে পড়ল সবুজ মাঠে।
সেই ২০০৫ সালে রামোস রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে জড়ালেন। এই ষোলটা বছরে ট্রফি জিততে কত ঝড়ঝঞ্ঝা বয়ে গেছে বিখ্যাত এই ফুটবল দলটির ওপর দিয়ে। প্রতিপক্ষের কত আক্রমণ গোল পোস্ট পর্যন্ত পৌঁছাতেও দেননি রামোস। বুক দিয়ে আগলে রেখে রিয়াল মাদ্রিদকে ট্রফি এনে দিয়েছেন এই ডিফেন্ডার। ক্যারিয়ারে এই স্প্যানিশ তারকা ৬৭১টা ম্যাচ খেলছেন, ১০১টা গোল করেছেন আর ট্রফি জিতেছেন ২২টি। কত স্মৃতি জড়িয়ে রামোসের চোখেমুখে।
বিদায়ের এমন মুহূর্তে রামোসও আবেগে ভাসলেন। তারও চোখ ভিজেছে। রামোস বলছিলেন, ‘খুব কঠিন বিদায় বলা। তবুও বলব সময় এসেছে বিদায় বলার। ধন্যবাদ রিয়াল মাদ্রিদ। এই হূদয়ে সব সময় রিয়াল মাদ্রিদ থাকবে। কিন্তু এটা বিদায় না। আমি ফিরব। রামোসের এমন বিদায় বেলায় তার সতীর্থ ফুটবলাররা টুইট করে শুভকামনা জানিয়েছেন।
