দাখিল পরীক্ষা দেওয়া হলো না ছাবিনা খাতুনের

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:৩১

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রতিবন্ধী ছাবিনা খাতুনের দাখিল পরীক্ষা দেওয়া হলো না। শনিবার মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রথমদিন ছিল কোরআন বিষয়ের পরীক্ষা। ছাবিনা উপজেলার হাজী আবেদ আলী মেমোরিয়াল মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী এবং আলীগ্রামের মোঃ ছাইদুর রহমানের মেয়ে। 

ছাবিনা খাতুনের অভিযোগ, ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে দাখিল শ্রেণির ছাত্রী হিসেবে তার মাদ্রাসার সুপার সুলতান মাহমুদের কাছে নিবন্ধন ও ফরম পূরণের জন্য ৭ হাজার টাকা দিয়েছেন। ইতিপূর্বে নিবন্ধনপত্র চাইলে সুপার তাকে একবারে প্রবেশপত্র প্রদানের সময় দেওয়া হবে বলে জানান। আর সেই মোতাবেক গত বৃহস্পতিবার সে সুপারের কাছে গিয়ে নিবন্ধনপত্র ও প্রবেশপত্র চায়। সুপার সুলতান মাহমুদ পরীক্ষা শুরুর দিন উল্লাপাড়া কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশপত্র প্রদান করা হবে বলে জানান। শনিবার কামিল মাদ্রাসায় পরীক্ষা দেবার প্রস্তুতি নিয়ে এসে ছাবিনা জানতে পারে তার মাদ্রাসা থেকে এ বছর কোনো শিক্ষার্থীর দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ করা হয়নি। এ দিকে সুপার সুলতান মাহমুদকেও পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাবিনা খুঁজে পায়নি। পরে সে পরীক্ষা দিতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ছাবিনা জানায়, তার মাদ্রাসার সুপার বড় হবার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেন। অনেক কষ্টে সে এতদূর এগিয়ে এসেছে। সে সুপার সুলতান মাহমুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে। শনিবার ছাবিনা খাতুনের বাবা ছাইদুর রহমান দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের সভাপতি ও উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে উক্ত সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে হাজী আবেদ আলী মেমোরিয়াল মহিলা দাখিল মাদ্রাসার সুপার সুলতান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ছাবিনা খাতুনের কাছ থেকে দাখিল পরীক্ষার নিবন্ধন ও ফরম পূরণের কোনো টাকা নেননি বলে দাবি করেন। সুপার জানান, তার মাদ্রাসাটি এমপিও ভুক্ত নয়। ছাত্রী ও শিক্ষক না থাকার জন্য মাদ্রাসাটি কিছুদিন আগে বন্ধ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার উপজেলায় নন এমপিওভুক্ত কোনো মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তার জানা নেই। তবে বিষয়টি তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। 

এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান জানান, ছাবিনা খাতুনের বাবা ছাইদুর রহমান তার কাছে কথিত মাদ্রাসার সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।