ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। গতকাল আকস্মিকভাবেই তিনি সস্ত্রীক দিল্লি সফরে যান এবং রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এরপর রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও সাক্ষাত্ করেন।
পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন চলছে যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে সংঘাতের জেরে রাজ্যপালকে অপসারণ করা হতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতেই রাজ্যপালের রাষ্ট্রপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত্। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেছেন, উনি রাজ্যপাল থাকবেন কি থাকবেন না, তা বিজেপির ব্যাপার। রাজ্যপাল দিল্লিতে যেতেই পারেন। এটা তার স্বাধীনতা। রাজ্যপাল তো ওদেরই লোক। তাকে সরানোর জন্য আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনবার চিঠি দিয়েছি। উনি থাকবেন কি থাকবেন না, তা আমি কী করে বলব? উনি যখন এসেছিলেন, তখন আমাদের সঙ্গে কেন্দ্র কোনও আলোচনা করেনি। তার পরিবর্তে কে আসবেন, তাও নিশ্চয়ই আলোচনা করা হবে না। রাজ্যপাল সম্পর্কে আমি আর কী বলব? উনি পশ্চিমবঙ্গে শুধুই সন্ত্রাস দেখছেন। এখানে আমার করার কিছু নেই।’
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের বিরোধ চলছে। নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাসের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সরব রয়েছেন। সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরিচালিত ভারত সরকার এই লাগাতার সংঘাতে থাকতে চাইছে না। পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসতে রাজ্যপালকে রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় লাগিয়ে রাখার প্রয়াসও ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাকে রাজ্যপাল রাখার অর্থ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জনপ্রিয়তা আরও কমে যাওয়া। রাজ্যপাল হিসেবে আরিফ মোহম্মদ খানের নাম শোনা যাচ্ছে। তিনি বর্তমানে কেরালার রাজ্যপাল। যদিও এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সমর্থনযোগ্য তথ্য মেলেনি। ঠিক তেমনি জগদীপ ধনকড়কে অপসারণ করা হবে এমন তথ্যও সরকারিভাবে বলা হয়নি।
একটি সূত্র জানায়, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন হিংসার ঘটনা নিয়ে রাজ্যপাল কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে কী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন কোনও রাজনীতির প্যাঁচ অপেক্ষা করছে? দিল্লির রাজনৈতিক মহল বলছে, এ বিষয়ে অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। এদিকে মমতা বলেন, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ ও গুজরাটে বড় বড় ঘটনা ঘটলেও সেখানে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠানো হচ্ছে না। পরিকল্পনা করে রাজনৈতিক উদ্দেশে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে।
