জুলকার নাঈন, সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা
সরাইলের বড্ডাপাড়া-কুচনী আঞ্চলিক সড়ক সংস্কার না হওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলজিইডির আওতাধীন এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। দেখা গেছে, রাস্তার বেহাল হওয়ার অজুহাতে রিকশা, সিএনজি ও অটোরিকশাচালক কয়েক গুণ ভাড়া আদায় করছেন যাত্রীদের কাছ থেকে। তেরকান্দা থেকে কাটানিশার অংশটুকু বেহাল। দীর্ঘদিন সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। সরাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১ হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ ও তিন মিটার প্রস্থ রাস্তাটি ১ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তাটির নির্মাণের কাজ পায় একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরু হয় গত ২০২০ সালের মার্চে। শেষ করার কথা ছিল ২০২০ সালের আগস্টে। কিন্তু মহামারি করোনা এবং বন্যার কারণে সময় বাড়িয়ে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরাইল উপজেলার সদর, কালিকচ্ছ ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বড্ডাপাড়া-কাটানিশার যাতায়াতের একমাত্র সড়কটির নাজুক অবস্থা। বেশির ভাগ অংশ ভেঙে গেছে। ইট-বালু বের হয়ে রাস্তার পাশ বিলীন হয়ে গেছে। চলাচল করতে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। বর্ষার পানি আসার আগে কাজ সম্পন্ন করা না হলে দুর্ভোগ আরো চরমে পৌঁছাবে। স্থানীয় বাসীন্দা ও জেলা যুবলীগ নেতা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কাজ না হওয়ায় সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ২০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। ৫ মিনিটের রাস্তা ১ ঘণ্টা ঘুরে যেতে হচ্ছে।’ নোয়াগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান কাজল চৌধুরী বলেন, ‘সড়কটির কারণে সাধারণ মানুষের অনেক কষ্ট হচ্ছে।
এদিকে, প্রায় চার মাস আগে বড্ডাপাড়া-কাটানিশার রাস্তার পুরাতন ব্রিজটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। নতুন ব্রিজের কাজ আগাচ্ছে না।’ সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, ‘বড্ডাপাড়া-কুচনী সড়ক সংস্কারের সময়সীমা পার হয়ে গেছে। ফলে ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হচ্ছে না। পরবর্তীতে সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
