ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখার ভল্টে থাকা ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় বিষয়টি ধরা পড়েছে। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শাখার ম্যানেজার (অপারেশন) এমরান আহমেদ ও ক্যাশ ইনচার্জ রিয়াজুল হককে পুলিশে সোর্পদ করেছে। তবে এ ঘটনায় এখনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
গতকাল শুক্রবার বিকালে বংশাল থানার এসআই প্রদীপ কুমার সরকার ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, আসামিরা ব্যাংকের ভল্টের টাকার দায়িত্বে ছিলেন। ভল্টের চাবি তাদের কাছেই ছিল। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের অডিট টিম অডিট করার সময় ব্যাংকের ভল্টে থাকা ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকার হিসাবে গরমিল পান। ব্যাংকের ম্যানেজার আবু বক্কর সিদ্দিকের কাছে অডিট টিম টাকা গড়মিলের স্টেটমেন্ট দাখিল করেন। তখন আবু বক্কর সিদ্দিক অডিট টিমের স্টেটমেন্টের ভিত্তিতে এমরান আহমেদ ও রিয়াজুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসামিরা তাত্ক্ষণিকভাবে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন। আবেদনে আরো বলা হয়, ম্যানেজার তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে অডিট টিমের সহায়তায় আসামিদের আটক করেন। আসামিদের থানায় হাজির করে আবু বক্কর সিদ্দিক বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। ওসি পর্যালোচনা করে দেখতে পান অভিযোগটি দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় অপরাধ, যা তদন্তের ক্ষমতা দুর্নীতি দমন কমিশনের শিডিউলভুক্ত। দুদক ঘটনার তদন্তের ব্যবস্থা করবে। এ অবস্থায় আসামিদের আটক করে আদালতে না পাঠালে তারা পালিয়ে যেতে পারেন। তাছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ব্যাংকের টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার বিষয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগকারীর অভিযোগসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুদককে অবহিত করা হয়েছে। দুদক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আগে পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন প্রদীপ কুমার সরকার।
অপরদিকে, দুই কর্মকর্তার পক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে আগামী ২১ জুন জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।
টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন ক্যাশ ইনচার্জ
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইমরানুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ব্যাংকের ভল্ট থেকে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেছেন ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ রিয়াজুল হক। তিনি আরো বলেন, আমরা জেনেছি এর সঙ্গে অপারেশন ম্যানেজারও জড়িত। ঐ দুই জনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তদন্তের পরে এ বিষয়ে সবকিছু জানা যাবে। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ব্যাংক কর্তৃপক্ষও বিষয়টির তদন্ত করবে।
তবে এতগুলো টাকা খোয়া যাওয়ায় বিষয়টি কি এক দিনের হিসাবে বেরিয়ে এসেছে, নাকি ব্যাংক ক্লোজিংয়ের আগে জুন মাসে যে অডিট হয় সেই হিসেবে সামনে এসেছে। এ ব্যাপারে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।
