ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে কট্টরপন্থি রাইসি

আপডেট : ১৮ জুন ২০২১, ২২:০৭

ইরানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এগিয়ে আছেন কট্টর শিয়া মতাবলম্বী নেতা ইব্রাহিম রাইসি। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা রাইসি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আছেও বলে জানা গেছে। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছিল। আজ শনিবার দুপুরের মধ্যে নির্বাচনের ফল পাওয়ার কথা রয়েছে। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার

স্থানীয় সময় গতকাল সকাল ৭টায় ৭৩ হাজার ৫০০ ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ শেষ করা না গেলে প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর কথা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি সিটি কাউন্সিল, স্থানীয় পরিষদ এবং পার্লামেন্ট ও বিশেষজ্ঞ পরিষদের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণও                চলছিল। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের বিপুল উপস্থিত দেখা যায়। তারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট দেওয়ার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আজ জাতির ভাগ্য নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কেউ যেন এ কথা না ভাবে আমার একটি ভোটের কি মূল্য আছে? ইরানের নির্বাচনি আইন অনুযায়ী কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় দফা ভোট নেওয়া হবে। বিচারক ইব্রাহিম রাইসি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় আছেন। তিনি পশ্চিমাদের কট্টর সমালোচক। তিনি উদারপন্থি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির স্থলাভিষিক্ত হবেন। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী দুই মেয়াদের বেশি ক্ষমতায় থাকা বেআইনি হওয়ায় প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি তৃতীয়বার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।

পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পাদিত ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি টিকিয়ে রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই নতুন নেতৃত্ব বেছে নিতে চলেছে ইরান। বর্তমান সংকটময় সময়ে দেশকে যেভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এই নির্বাচনকে সে বিষয়ে জনমত যাচাই হিসেবেও দেখছেন ইরানের বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে রাইসির মূল চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনীতি। জাতীয় অর্থনৈতিক দুর্দশা লাঘব করতে ব্যর্থ হলে বিক্ষোভ ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়বে। নির্বাচনে রাইসির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতিকে। নির্বাচনি প্রচারের সময় তিনি বলেন, আরেকজন কট্টরপন্থি জয়ী হওয়ার অর্থ হচ্ছে বিদেশি শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে আরো বেশি অবরোধের আশঙ্কা।