পিরোজপুর অফিস
পিরোজপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের ঢাকাগামী অধিকাংশ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন চলাচলের পিরোজপুর-টুঙ্গীপাড়া-গোপালগঞ্জ-ঢাকা সড়কটি বেশ কিছুদিন ধরে নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার শৈলদাহ বাজারের উত্তরে গত বর্ষা মৌসুমে মধুমতি নদীর ভাঙনে পড়ে এ সড়কটি এখন যানবাহনের জন্য মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, পিরোজপুর বাস টার্মিনাল, বরগুনার পাথরঘাটা, ইন্দুরকানির চণ্ডীপুর ও পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে দৈনিক প্রায় ১শ যাত্রীবাহী বাস এ পথে ঢাকায় আসা-যাওয়া করে। এ ছাড়া ঢাকা, টুঙ্গীপাড়া, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চলাচলকারী পিরোজপুর ও এর পাশের এলাকার প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান ইত্যাদি যানবাহনও এ পথ ব্যবহার করে।
যাত্রীবাহী বাস ইমাদ পরিবহনের চালক আনোয়ার হোসেন জানান, প্রতিদিন অন্তত ১শ বাসের ট্রিপ হয় ঢাকা-পিরোজপুর রুটে। শৈলদাহ বাজারের উত্তরে মধুমতি নদী ভাঙন কবলিত রাস্তার অংশ মারাত্মকভাবে দুর্ঘটনাপ্রবণ। ভাঙনে রাস্তার মধ্যে ফাটলও দেখা দিয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসহ দিনে-রাতে রাস্তার এই অংশ অতিক্রম করতে হয়। এ পথে নতুন দোলা পরিবহনের চালক মিঠু শেখ জানান, প্রতিদিনই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এ পথে গাড়ি চালাই। যে কোনো দুর্ঘটনার আগেই রাস্তাটি মেরামত করা দরকার। উপজেলার কলাতলা ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিগত ২০ বছর ধরে মধুমতি নদীর কবলে পড়ে শৈলদাহ গ্রাম ভেঙে যাওয়ায় বাঁধ ও রাস্তা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। একাধিকবার রাস্তাটি মেরামত ও বিকল্প পথ নির্মাণ করেও সমস্যা দূর করা যায়নি।
ইউপি চেয়ারম্যান সিকদার মতিউর রহমান বলেন, গত চার-পাঁচ মাস ধরে ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে রাস্তাটি রক্ষার জন্য কিছু কাজ করা হয়েছে।
বাগেরহাটের সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ হুমায়ূন কবির বলেন, সমস্যা সমাধানে বিকল্প সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
