ইরানের প্রধান বিচারপতি ইব্রাহিম রাইসি দেশটির ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। তবে ব্যক্তি হিসেবে তিনি অষ্টম প্রেসিডেন্ট। রাইসি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন। দেশটির নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাইসি ৬২ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও রাইসির জয়ের খবর নিশ্চিত করেছে। শুক্রবারের নির্বাচনে ইব্রাহিম রাইসি তার তিন প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছেন। ফলাফল ঘোষণার আগে বিরোধী প্রার্থীরা কট্টরপন্থি রাইসিকে জয়ী উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার
ফল ঘোষণার আগেই জয়ী রাইসি
প্রার্থী মোহসেন রেজাই, নাসের হেম্মাতি ও আমির হোসেন ঘাজিজাদেহ হাশেমি পরাজয় মেনে নিয়ে রাইসিকে অভিনন্দন জানান। প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি ভোটদানের জন্য জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাইসিকে অভিনন্দন জানিয়ে সাফল্য কামনা করেছেন।
১৯ ঘণ্টার ভোট
শুক্রবার ইরানে ১৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে দেশের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করার জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সন্ধ্যায় ৭টায় ভোটগ্রহণের মূল সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও বহু মানুষ ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত রাত ২টায় ভোটাভুটি শেষ হয়। তবে রাত ২টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রগুলোতে উপস্থিত হতে পেরেছেন তাদেরকে ২টার পরও ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দোলরেজা রহমানি ফাজলি জানিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। তাই নির্বাচনে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলেনি।
কে কত ভোট পেলেন
নির্বাচনে ভোটার ছিলেন প্রায় ৬ কোটি। এর মধ্যে ভোটের হার ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর সর্বনিম্ন। এর মধ্যে রাইসি পেয়েছেন ২ কোটি ৮৯ লাখ ৩৩ হাজার ৪ ভোট (৬১ দশমিক ৯৫ শতাংশ)। বাকিদের মধ্যে মোহসেন রেজাই ৩৪ লাখ ১২ হাজার ৭১২ ভোট, নাসের হেম্মাতি ২৪ লাখ ২৭ হাজার ২০১ ভোট এবং আমির হোসেন ঘাজিজাদেহ হাশেমি পেয়েছেন ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭১৮ ভোট।
আগস্টে দায়িত্ব নেবেন রাইসি
উদারপন্থি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির কাছ থেকে আগস্টের শুরুতে দায়িত্ব নেবেন কট্টরপন্থি রাইসি। তার আমলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ছয় জাতির সঙ্গে পরমাণু চুক্তির ভবিষ্যত্ নিয়ে শঙ্কা বেড়েছে। জানা গেছে, রাইসি দায়িত্বে আসার আগেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে একটা সমাধানে আসতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল জয়ের পর রাইসি পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রেসিডেন্ট রুহানির সঙ্গেও সাক্ষাত্ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় রাইসি
নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার আগ পর্যন্ত ৬০ বছর বয়সি রাইসি ২০১৯ সাল থেকে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। প্রধান বিচারপতি হওয়ার কয়েক মাস পরই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার বিরুদ্ধে ১৯৮৮ সালে বিরোধী রাজনীতিকদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর ২০০৯ সালে বিক্ষোভকারীদের দমনেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন। রাইসিকে জেতানোর জন্য কারসাজি হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে বিদেশে বসবাসরত বিরোধী পক্ষ নির্বাচন বয়কটের ডাক দেন।
