করোনা ইউনিট প্রতিদিন তিল তিল করে দখলে নিচ্ছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল! ফলে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত্ এই হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিত্সার সুযোগ বাড়লেও অন্য জটিল রোগীদের চিকিত্সার সুযোগ কমছে। এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, ‘রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন চললেও কমছে না করোনা রোগী ভর্তি, এমনকি মৃত্যুর ঘটনা। বর্তমানে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ বিশেষ করে, ধনী-দরিদ্র-দিনমজুর গণহারে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বেশির ভাগ করোনা ও উপসর্গের রোগী শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসছে। একটি আইসিইউ শয্যার জন্য অপেক্ষায় থাকছে অসংখ্য রোগী। নতুন সুস্থ অথবা মৃত্যু না হলে আইসিইউ শয্যা ফাঁকা হচ্ছে না। চলমান পরিস্থিতি আতঙ্কের বলেও জানান তিনি।
পরিচালক জানান, এই হাসপাতালের ১ হাজার ২০০ শয্যার মধ্যে ইতিমধ্যে ৩০৯টি করোনা রোগীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এখানে রাজশাহী ছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, নওগাঁ, জয়পুরহাট, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাটের করোনা এবং অন্য রোগীরা চিকিত্সার জন্য আসছে। তিনি জানান, শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের তিন জন (রাজশাহী) পজিটিভ ছিল। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের একজন করোনা মুক্তির পর মারা যায়। আর উপসর্গে মৃত ছয় জনের দুজন রাজশাহীর ও চার জন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। এ নিয়ে গত ১৯ দিনে (১ থেকে ১৯ জুন) করোনা ইউনিটে মৃত ১৯৩ জনের ১০৫ জন পজিটিভ ছিল।
পরিচালক আরো জানান, শনিবার সকালে ৩০৯ বেডের ইউনিটে বিপরীতে করোনা ও উপসর্গে ভর্তি ছিল ৩৬৫ জন। এদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৪৬ জন। আগের দিন ভর্তি ছিল ৩৪৯ জন। গত শুক্রবার রাতে রাজশাহীর দুই ল্যাবে ৫৬৩ নমুনায় ১৯২ জনের পজিটিভ এসেছে। এতে রাজশাহীতে শনাক্তের হার ৩০.০৫ শতাংশ এবং নওগাঁয় ৪২.২৫ শতাংশ হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ‘শুরুতে এই হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ সুবিধা ছিল। ঐ কয়টি যথেষ্ট না হওয়ায় কয়েক ধাপে শয্যা বাড়িয়ে বর্তমানে ২০টি হয়েছে। গত ১৪ জুন সর্বশেষ দুটি আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের আইসিইউ বাড়ানোর মতো আর স্ট্র্যাকচারাল ক্যাপাসিটি নেই, যা ছিল সবই করলাম।’
পরিচালক জানান, ‘করোনা রোগীর বাড়তি চাপ অব্যাহত থাকায় একের পর এক সাধারণ ওয়ার্ডগুলোকে করোনা ইউনিটে রূপান্তর করা হচ্ছে। বর্তমানে রামেক হাসপাতালের ২৯-৩০, ৩৯-৪০, ২৫, ২২, ২৭, ১৬, ১৫, ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডকে কোভিড-১৯ ইউনিট করা হয়েছে। এছাড়া কেবিনের ৩০টি মিলিয়ে করোনা শয্যা ৩০৯টি হয়েছে। ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন করোনা ইউনিটে আরো ১৫টি শয্যার ব্যবস্থা করা যাবে। এর পরও করোনা ইউনিট সম্প্রসারিত করতে হলে এখানে অন্য রোগীদের চিকিত্সা সেবা সংকুচিত হবে।’
পরিচালক আরো জানান, ‘প্রথম ঢেউয়ে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গড়ে ৬০-৬৫ রোগী ভর্তি থাকত এবং গড়ে দুই-তিন জন মারা যেত। দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে শনিবার (১৯ জুন) ভর্তি ছিল সর্বোচ্চ ৩৬৫ রোগী। এ সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ থাকছে। মৃত্যুও হচ্ছে প্রতিদিন গড়ে ১০ জনের।
রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. কাইয়ুম তালুকদার মনে করেন, রামেক হাসপাতালে চিকিত্সার জন্য যারা আসছে, বেশির ভাগই খারাপ অবস্থায় আসছে। তাদের অক্সিজেন দিয়েও রিকভার করা যাচ্ছে না।
