মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রস্তাবনা গ্রহণের সময় গভীর হতাশা ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বলেছে, এ প্রস্তাবনা রোহিঙ্গা সংকট সম্যকভাবে তুলে ধরতে ও সমস্যা সমাধানে কোনো সুপারিশ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। গতকাল জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ১৮ জুন ‘মিয়ামার পরিস্থিতি’ নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় প্রস্তাবনাটি গৃহীত হয়। এর পক্ষে ১১৯ ভোট, বিপক্ষে এক এবং ভোটদানে বিরত ছিল ৩৬ টি দেশ। প্রস্তাবনায় মিয়ানমারে সাম্প্রতিক জরুরি অবস্থা জারিসহ গণতান্ত্রিক সংকট, রাজনৈতিক নেতাদের আটক, গণতান্ত্রিক অবস্থা পুনরায় চালু ও মিয়ানমারের সমস্যা সমাধানে আসিয়ানের ভ‚মিকাকে সমর্থন করা হয়।
প্রস্তাবনাটি উত্থাপন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য এবং কানাডাসহ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর একটি কোর গ্রæপ। কোর গ্রæপটি আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে প্রস্তাবনাটি চ‚ড়ান্ত করে। সম্প্রতি ব্যাংককে আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর নেতাদের একটি শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা অংশ নেন। আসিয়ানের বৈঠকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত পাঁচ দফা প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ পরিষদ এবং অতিদ্রæত এর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।
তবে ওই প্রস্তাবনায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া বা কোনো ধরনের সুপারিশও করা হয়নি। এমনকি রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্থায়ী ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাসের জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব প্রদান ও যথাযথভাবে উল্লেখ পর্যন্ত করা হয়নি। সব দিক বিবেচনা করে রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ শনাক্তের ক্ষেত্রেও ঘাটতি দেখা গেছে প্রস্তাবনায়। মৌলিক ইস্যুগুলো প্রস্তাবনায় উল্লেখ না থাকায় বাংলাদেশ বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
আসিয়ান, সার্কসহ ওআইসিরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সদস্য প্রস্তাবনায় ভোটদানে বিরত ছিল। সাধারণ সভায় অংশ নেওয়া দেশগুলোর বড় একটি অংশ প্রস্তাবনা গৃহীত হওয়ার পর কথা বলে। তারা প্রত্যেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের বিরাট আতœত্যাগ ও অবদানের প্রশংসা করে।
ভোটের ব্যাপারে বাংলাদেশের অ্যামবাসাডর তার ব্যাখ্যায় প্রস্তাবনার ব্যাপারে তার হতাশার কথা জানান। তিনি প্রস্তাবনায় প্রত্যাশার ঘাটতি দেখতে পেয়েছেন যা বিশ্বকে একটি ভুল বার্তা দেবে। সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা মিয়ানমারে এক ধরনের দায়মুক্তির বার্তা দেয়।
