স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
একটু বৃষ্টি হলেই রংপুর রেল স্টেশনের ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি। দেওয়ালে ধরেছে ফাঁটল। অপরিচ্ছন্ন আর ভাঙা ড্রেনে ময়লা জমে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ওয়েটিং রুমও খুব সংকীর্ণ। যাত্রীদের নিরাপত্তায় নেই সীমানা প্রাচীর। রেল স্টেশনটি অরক্ষিত থাকায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন যাত্রীরা। স্টেশনে প্রয়োজনীয় সংস্কার না করায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। তারা জরুরি ভিত্তিতে স্টেশনের প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, রংপুর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন এক ডজনের বেশি ট্রেন যাতায়াত করে। গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার যাত্রী স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠা-নামা করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টেশনের যাত্রীদের ওয়েটিং রুম ও সেখানে শৌচাগার থাকলেও তা প্রয়োজনীতার চেয়ে খুবই ছোট। ১০/১২ জনের বেশি যাত্রী বসতে পারেন না। বাকিদের প্লাটফরমে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। শত বছরের এই স্টেশনে নেই কোনো গণশৌচাগার। স্টেশনের পূর্বপার্শের প্রধান ফটকের পাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। দিনে রাতে সেখানে ভিড় করছে কুকুরের দল। ড্রেনেজব্যবস্থা খুবই নাজুক। ভেঙে গেছে একটি গার্ডরুমের দরজা। চিত্র বিনোদনাগারের কক্ষটির দুইটি দরজাই রয়েছে জোড়া তালি দেওয়া। তার পাশের কক্ষটি জঙ্গলে ভরে গেছে। প্লাটফরম নিচু হওয়ায় ট্রেনে উঠতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
রনি মিয়া নামে এক যাত্রী বলেন, তিনি ব্যাবসায়িক কাজে প্রায়ই ঢাকায় যান। এ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হয়। ওয়েটিং রুমে প্রবেশ করতে গিয়ে দেখেন ১০-১২ জন বসার পর আর জায়গা থাকে না। বসার স্থান না পেয়ে বাধ্য হয়েই প্লাটফর্মে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। তিনি বলেন, রংপুর রেল স্টেশনে জরুরি ভিত্তিতে যাত্রীদের ওয়েটিং রুম ও শৌচাগার ব্যবস্থা আরো বাড়ানো উচিত।
রংপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিউর রহমান সফি বলেন, স্টেশনটির সীমানা প্রাচীর না থাকায় সব সময় স্টেশনে অপরাধীদের আনাগোনা থাকছেই। স্টেশনটির আধুনিকায়ন করা জরুরি। মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শেখ শাহাদত হোসেন স্টেশনের বেহালদশায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সারা দেশের মধ্যে কোথাও এমন বেহাল দশার স্টেশন নেই। এখনো এই স্টেশন চলছে মিটার গেজে।
এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে রংপুর স্টেশনের দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে।
