প্রতি মাসে দেড় কোটি টাকা লেনদেন করত :র্যাব
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দারুস সালাম এলাকা থেকে অবৈধ বিটকয়েন ক্রয়-বিক্রয় চক্রের অন্যতম হোতা হামিমসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৪। হামিম ২০১৩ সালে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র থেকে কম্পিউটারের ওপর দক্ষতা লাভ করে। এরপর সে নিজেই একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুলে ৫০ জনকে বিটকয়েন জালিয়াতির প্রশিক্ষণ দেয়। এই চক্রের কয়েক হাজার সদস্য রয়েছে। প্রতি মাসে তারা দেড় কোটি টাকা বিটকয়েনের মাধ্যমে লেনদেন করত। তারা ভার্চুয়াল জগতে অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি কিনত। এরপর সেই পর্নোগ্রাফিগুলো বেশি অর্থের বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের কাছে বিক্রি করত।
গতকাল রবিবার দুপুরে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের লিগাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। গ্রেফতারকৃতরা হলো—হামিম প্রিন্স খান, রাহুল সরকার, সঞ্জীব দে ওরফে তিতাস ও মো. সোহেল খান। এদের সবার বাড়ি ফরিদপুরে। তাদের কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ ও দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করেছে র্যাব।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সম্প্রতি র্যাবের গোয়েন্দা দল জানতে পারে, একটি চক্র অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রা, ক্রিপ্টো কারেন্সি, বিটকয়েন লেনদেনের সঙ্গে জড়িত। চক্রটি ডার্ক সাইট থেকে বিটকয়েন দিয়ে পর্নোগ্রাফি কেনাবেচার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব-৪ নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে।
তিনি বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ইন্টারনেটের বিভিন্ন সাইট থেকে অ্যাকাউন্ট করে ক্রিপ্টো কারেন্সি, বিটকয়েন কেনাবেচা করে থাকে। এই বিটকয়েক অবৈধ জুয়া খেলায়ও ব্যবহূত হয়। তারা মোবাইল ব্যাংকিং বা ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফারের মাধ্যমে বাংলাদেশি বেশ কিছু অসাধু ডোমেইন হোল্ডার ও ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেন করে। তারা অবৈধ ডার্ক পর্নোসাইট থেকে পর্নোগ্রাফি কেনে। এরপর সেগুলো ছড়িয়ে দেয়।
বিটকয়েন অত্যন্ত লাভজনক বলে তারা প্রচারণা চালায়। এই প্রচারণার মাধ্যমে যুবক-যুবতীদের অবৈধ লেনদেনে প্রলুব্ধ করত। আগ্রহীদের তারা অর্থের বিনিময়ে ক্রিপ্টো কারেন্সি প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। এমন আগ্রহীদের কাছ থেকে নেওয়া কোটি কোটি টাকা তারা বিনিয়োগ করে। আগ্রহীদের তারা অনলাইনে যুক্ত করত।
চক্রের হোতা হামিম প্রিন্স খান ২০১৩ সালে ফরিদপুরের একটি কলেজ থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করে। পরে ক্রিপ্টো কারেন্সির ওপর দক্ষতা লাভ করে ৫০ জনকে বিটকয়েন লেনদেনের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়। সে মূলত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশে এ কার্যক্রম চালিয়ে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে।
