স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হবে। বাস টার্মিনাল ছাড়া কোনো জায়গা থেকে চাঁদা আদায় করা যাবে না। সরকার কিংবা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত টোল বা রাজস্ব নির্ধারিত টার্মিনাল থেকেই আদায় করতে হবে। তিনি আরো বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দিতে হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। গতকাল রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সড়ক পরিবহন বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়। সভায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খান এমপি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. মসিউর রহমান রাঙা এমপি, পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, টাস্কফোর্সের অন্য সদস্যরা সশরীরে ও ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদারকরণ এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে একটি কমিটি গঠন করা হয়। যেই কমিটির ১১১টি সুপারিশ ছিল। পরে এ বিষয়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এর বেশকিছু সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে, অল্প কিছু বাস্তবায়িত হয়েছে। বাকিগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় আমরা সে বিষয়ে কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারা দেশে রিকশাভ্যানের ভেতরে ব্যাটারিচালিত মোটর লাগিয়ে রাস্তায় চলছে। এর শুধু সামনের চাকায় ব্রেক। পেছনের চাকায় কোনো ব্রেক নেই কিংবা ব্রেকের ব্যবস্থা থাকলেও অপ্রতুল। জরুরি ব্রেক করলে প্যাসেঞ্জারসহ গাড়ি উলটে যায়। আমরা দেখছি হাইওয়েতেও এই রিকশা চলে এসেছে। সেজন্য আমরা সারা দেশে এই ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ইজিবাইক, নছিমন, করিমনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে—জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নছিমন, করিমন, ভটভটিসহ বিভিন্ন শহরে অটোরিকশা চলছে। আমরা সব জায়গায় যানবাহনের ব্যবস্থা করতে পারিনি। গ্রাম-গ্রামান্তরে সুন্দর রাস্তা হয়েছে। হাঁটা কিংবা সাইকেল, মোটরসাইকেল, রিকশা ছাড়া পর্যাপ্ত যানবাহন নেই। সেজন্য নছিমন, করিমন পণ্য পরিবহন কিংবা যানবাহনের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। শিগগিরই এটাকে পরিমিত করা বা ফাইনাললি বন্ধ করা যায় কি না সে বিষয়েও আলোচনা হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, যারা পরিবহন শ্রমিক আছেন, তাদের মালিকপক্ষ থেকে নিয়োগপত্র দিতে হবে। বৈঠকে উপস্থিত উভয়পক্ষই খুব দ্রুত বিষয়টি বাস্তবায়ন করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখছি মোটরসাইকেলে তিন-চার জন করে উঠছেন। এজন্য প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেলে কোনোভাবেই চালকসহ দুই জনের বেশি যেন উঠতে না পারেন সেজন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সারা দেশের দুর্ঘটনাগুলোর কারণগুলো নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে সেগুলো কমানোর জন্য আমরা কাজ করছি। এছাড়া নিবন্ধন ছাড়া যাতে কোনো যানবাহন রাস্তায় চলতে না পারে সে বিষয়টিও নজরদারিতে আনা হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, চাঁদা নয় তবে পৌরসভা সিটি করপোরেশনের ধার্য টোল বা রাজস্ব দিতে হবে। সেটা কত হবে, কীভাবে নেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা হবে। মালিক-শ্রমিক সমিতির যে চাঁদা নির্ধারিত রয়েছে সেই টাকাও টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথা থেকে নেওয়া যাবে না।
