প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৯৬ পর্যন্ত টানা ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কেবল লুটপাটের রাজনীতি করে গেছেন। দেশের উন্নয়নের জন্য তাদের কোনো চিন্তাই ছিল না। গতকাল রবিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ঘর ‘উপহার’ দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পের’ দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৩৪০টি পরিবারকে বিনা মূল্যে দুই শতক জমিসহ সেমিপাকা ঘর উপহার দেওয়া হচ্ছে। গত জানুয়ারিতে প্রথম পর্যায়ে ৬৯ হাজার ৯০৪টি পরিবারকে ঘর প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের ৪৫৯টি উপজেলায় ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে ঘর দেওয়ার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে জমির দলিল ও ঘরের চাবি উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যারা ঘর পেয়েছেন, তাদের কষ্ট দূর করা এবং তাদের মুখের হাসি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতায় বসে শুধু নিজে খাব, নিজে ভালো থাকব, সেটা তো না। ক্ষমতায় থাকা মানে হচ্ছে মানুষের সেবা করার একটা সুযোগ, মানুষের জন্য কিছু করার সুযোগ। মানুষের সেবক হিসেবে যখন প্রথম সরকার গঠন করি, আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম যে, সেবক হিসেবেই নিজেকে আমরা তৈরি করেছি এবং সেভাবেই সাহায্য করে যাচ্ছি, কাজ করে যাচ্ছি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সীমিত আর্থিক সম্পদ নিয়েই আমরা কিন্তু এই ছিন্নমূল মানুষ, গৃহহারা মানুষ, ভূমিহীন মানুষদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের মাধ্যমে ভূমিহীনদের খাসজমি দেওয়া এবং তাদের জন্য গৃহনির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন, সেই থেকে যাত্রা শুরু। এ পর্যন্ত আমরা ১০ লাখের ওপরে মানুষকে গৃহনির্মাণ করে দিতে সক্ষম হয়েছি। জাতির পিতা এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আমাদের লক্ষ্য তার সৃষ্ট এই বাংলাদেশে একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, ভূমিহীন থাকবে না। ডিসেম্বরের মধ্যে আরো ১ লাখ পরিবারকে জমিসহ ঘর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।’
শেখ হাসিনা বলেন, দলিলে জমির মালিকানা স্বামী ও স্ত্রীর যৌথ নামে করে দেওয়া হয়েছে। তাদের নামে স্থায়ী দলিলের পাশাপাশি নামজারি করে খাজনা দাখিলাও দেওয়া হয়েছে। সেমিপাকা ঘরে আছে দুটি রুম, একটি বড় বারান্দা, রান্নাঘর ও টয়লেট। পাশাপাশি সুপেয় পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থাও আছে। এছাড়া আত্মনির্ভরশীল করতে ঐ সব পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের জন্য নানা ধরনের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
মুজিববর্ষে ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’—প্রধানমন্ত্রীর এমন সিদ্ধান্তের আলোকে আজকের আশ্রয়ণের মধ্য দিয়ে গত ছয় মাসে মোট ১ লাখ ২৩ হাজার ২৪৪টি পরিবারকে ভূমি ও গৃহ প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকারের সিনিয়র সচিব ও সচিবেরা তাদের নিজস্ব অর্থায়নে ১৬০টি পরিবারকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা গৃহ নির্মাণ করে দিয়েছেন। তারও আগে জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারকে বহুতল ভবনে একটি করে ফ্ল্যাট প্রদানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৪০৯টি পরিবারকে খুরুশকুল বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস গণভবন থেকে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। তিনি অনুষ্ঠানে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল’ শীর্ষক একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। অনুষ্ঠান থেকে প্রধানমন্ত্রী চারটি উপজেলার উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।
