পড়াশোনা ছাড়া আইনের ব্যাখ্যা দিলে জনগণ বিভ্রান্ত হয় :আইনমন্ত্রী

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ০০:১৪

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যে কোনো দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি বৈষম্যহীন ও সমতাভিত্তিক আইনি কাঠামো অপরিহার্য। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অন্যান্য গোলের সঙ্গে বৈষম্যহীন আইন ও নীতি প্রয়োগবিষয়ক গোল ১৬(বি) বাস্তবায়নে বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের উদ্যোগসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গতকাল রবিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ আয়োজিত লেজিসলেটিভ রিসার্চ-বিষয়ক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কখনো কখনো দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করি যে, কেউ কেউ আইন বিষয়ে গবেষণা এবং ভালোভাবে পড়াশোনা ছাড়াই আইন সম্বন্ধে কথা বলে থাকেন, আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। আইন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যে বিষয়ে ভালোভাবে পড়াশোনা ও গবেষণা না করে ব্যাখ্যা দেওয়া যায় না। দিলে জনগণ বিভ্রান্ত হয়।’

তিনি বলেন, এসডিজির গোল-১৬(বি) বাস্তবায়নে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ মুখ্য ভূমিকা পালন করছে। এর অংশ হিসেবে আইনি গবেষণার মাধ্যমে তারতম্যমূলক আইন ও নীতি চিহ্নিতকরণপূর্বক উহা সংস্কারবিষয়ক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১৭৯৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রণীত ১ হাজার ২৮৬টি আইনে কোনো বৈষম্যমূলক বিধান রয়েছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিতকরণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ বা বিভাগকে গবেষণার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল উপস্থাপন করেছে। গবেষণার মাধ্যমে তারা বিভিন্ন আইনের বৈষম্যমূলক বিধান, বৈষম্যের বিভিন্ন রূপ, যেমন—লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য, ভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে বৈষম্য, প্রয়োগের মাধ্যমে বৈষম্য ইত্যাদির স্বরূপ উদ্ঘাটনপূর্বক বেশ কিছু সুপারিশ প্রদান করেছে। আইন মন্ত্রণালয় এসব সুপারিশ বিশ্লেষণ করবে, যাতে সংশ্লিষ্ট আইনে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনয়ন করা যায়। এ ছাড়া সরকার বৈষম্যবিরোধী আইন প্রণয়নের যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে এসব সুপারিশ বিবেচনা করা হবে।