করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিতে ব্রাজিলে মৃত্যুর সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বে করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শীতের শুরুতে ব্রাজিলের পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। কারণ টিকাদান কর্মসূচির গতি খুবই ধীর। এছাড়া করোনার নতুন নতুন ধরন ছড়াচ্ছে এবং সামাজিক দূরত্ব বিধি আরোপে সরকারের অনীহা রয়েছে। এদিকে শনিবার দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে। তারা প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করে বলেছে, তার শাসন করোনার থেকেও বড় হুমকির। খবর বিবিসি ও সিএনএনের।
গত শনিবার ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ব্রাজিলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮৩ হাজার আর এদের মধ্যে ৫ লাখ ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। দেশটির স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা আনভিজার সাবেক প্রধান গনজালো ভেচিনা বলেন, টিকার প্রভাব দেখার আগেই মৃত্যুর সংখ্যা ৭ বা ৮ লাখে পৌঁছে যেতে পারে।
শিগগিরই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট আমাদের একটি চক্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ব্রাজিলের চরম ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো যেভাবে মহামারি মোকাবিলা করছেন তার সমালোচনা করেন ভেচিনা। মহামারি মোকাবেলায় ব্রাজিলের সমন্বিত কোনো রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেই, টিকা নিয়ে বলসোনারোর সংশয়, লকডাউন ও মাস্ক পর প্রয়োজনীয় হলেও এসব বিধিনিষেধ শিথিল করার পক্ষে প্রেসিডেন্টের অবস্থানে হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর মতে, অর্থনীতি লকডাউনের প্রভাব করোনা ভাইরাসের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে।
