নির্মাণ ও উপস্থাপনায় নিজের এক অনন্য অবস্থান তৈরি করেছেন দেবাশীষ বিশ্বাস। উপস্থাপকদের সংগঠন প্রেজেন্টার্স প্লাটফর্ম অব বাংলাদেশ (পিপিবি) এর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অসংখ্য অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পাশাপাশি নাটক-চলচ্চিত্র নির্মাণে তার চলাচল সাফল্যেও পথ ধরেই। নিজের ক্যারিয়ারসহ ইন্ডাস্ট্রির নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
এখনকার সময় নিয়ে শুনতে চাই —
বর্তমানে সেলিব্রেটি কথোপকথন ‘ফ্রাইডে স্টার’, সেলিব্রেটি কমেডি শো ‘দ্য গ্র্যান্ড ফান শো’ ও ‘সর্তক সংকেত’ নামের তিনটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করছি। পাশাপাশি বড় পরিসরের একটি টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার কথা চলছে। এর বাইরে আমার ‘শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ টু’ ছবিটি মুক্তি দেওয়ার সময়-সুযোগ খুঁজছি।
উপস্থাপনায় সফলতার সঙ্গে দুই দশক পার করলেন। এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া কতটা মসৃণ ছিল?
যখন ক্যারিয়ার শুরু করি তখন অনেকেই অবহেলার চোখে দেখেছেন। এমনকি আমাকে ‘বেয়াদব’ বলে অনুষ্ঠান রিজেক্ট করাও হয়েছে। সেই জায়গা থেকে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের দেড় হাজারের বেশি পর্ব উপস্থাপনা করে আজকে দেবাশীষ বিশ্বাস হয়েছি।
ছেলের চেয়ে মেয়ে উপস্থাপক বেশি হওয়ার জন্য সুযোগ না পাওয়াকে দায়ী করেন অনেকে। আপনি কাকে দায়ী করবেন?
আমরা গ্রামারের দিকে একটু বেশি নজর দিচ্ছি, পাশাপাশি চ্যানেল কর্তৃপক্ষ, প্রযোজক ও স্পন্সরেরও একটা চাহিদা থাকে মেয়ে উপস্থাপক নেওয়ার জন্য। গুণগতমান যাই হোক, মেয়ে তাদের চাই-ই চাই! বলছি না, মেয়েরা কাজ জানেন না। তবে দেশে প্রতিষ্ঠিত উপস্থাপকের সংখ্যা কিন্তু ছেলেরাই বেশি।
উপস্থাপনা নিয়ে দেবাশীষ বিশ্বাসের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা!
উপস্থাপনা শেখার একটি ইনস্টিটিউট করতে চাই। পাশাপাশি জাতীয় অনুষ্ঠান আমরা উপস্থাপনা করলেও আমাদেরই জাতীয় স্বীকৃতি নেই! এই পেশাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য কাজ করতে চাই।
দর্শকের জন্য মানহীন কন্টেন্টও নির্মিত হচ্ছে। ভাইরালও হচ্ছে...
দূরে সরে থাকা নিঃসন্দেহে বোকামি। আমরা যদি দূরে না থেকে একজোট হয়ে এ ধরনের কাজের বিরোধীতা করি তাহলে কিন্তু ভালো কাজ করতে তারা বাধ্য হবেন। এতে তাদের কুরুচিপূর্ণ কন্টেন্টগুলো আড়ালে চলে যাবে, আমাদেরগুলো উপরে উঠে আসবে। দর্শকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারণ তারা তো নির্মাণ করে না।
সমাজের অসংগতি নিয়ে নির্মাণে অনিহা বরাবরই রয়েছে। এর কারণ কী মনে করেন?
আমরা এখন করোনার বাইরে ভয়ঙ্কর শব্দ ‘ভাইরাল’ ও ‘ভিউ’ জ্বরে আসক্ত। ভালো জিনিস কিন্তু ভাইরাল হয় না, খারাপগুলোই হয়। শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই শব্দ দুটির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই করতে হবে। ভিউয়ের পেছনে না ছুটে কোয়ালিটির দিকে দৌড়ালে ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল হবে।
একক নির্ভরতা কাটাতে পারছেন না ইন্ডাস্ট্রি। অনেকেই নতুনদের সুযোগ না দেওয়াকে দায়ী করেন। এ নিয়ে কী মন্তব্য করবেন?
এটা ভুল। নতুন অনেকেই ১৫-২০টি সিনেমা একসঙ্গে করেছে। দর্শক তাদের সিনেমাও দেখেছে। কিন্তু কোয়ালিটি তাদের না থাকলে তো টিকতে পারবে না। কেউই চায় না শাকিব খান নির্ভর ইন্ডাস্ট্রি থাকুক। শাকিব নিজেও চায় না। কিন্তু তার মানের তো কাউকে হতে হবে!
