চাটমোহরের মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রির ধুম

আপডেট : ২১ জুন ২০২১, ২০:৫০

চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা

ঋতুচক্রে বর্ষাকাল শুরু হয়েছে। নদনদীতে নতুন পানি এসে গেছে। ঐ পানি চাটমোহরের চলনবিল অঞ্চলে চাটমোহরেও ঢুকতে শুরু করেছে নদী হয়ে। বর্ষার শুরু থেকেই বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এবার একটু আগেই খালবিল, ডোবা-জলাশয়-পুকুরে পানি জমতে শুরু করেছে। তাই চাটমোহরসহ চলনবিল অঞ্চলের বিভিন্ন হাটে ছোট মাছ ধরার সরঞ্জাম বেচাকেনারও আগাম ধুম পড়েছে।

রবিবার সরেজমিনে মাছ ধরার সরঞ্জাম বিক্রির সবচেয়ে বড় হাট অমৃতাকুন্ডার রেললাইনের পাশে খৈলশুনি হাটে গেলে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ধরইল গ্রামের সামির আলী বলেন, ‘বর্ষা আসতিচে। একোনি তো মানুষ খাদুন কিনবি। আষাঢ় মাসের বৃষ্টিত পানি যেদিক ছুটপি, ডিমওয়ালা মাছও সেদিক ছুটপি। আর জোলায়, জমির আইল ক্যাটে পানির সোতের মুখি খৈলসুসি, খাদুন ও ধুন্দি লাগালিই মাছ পাওয়া যাবি। ইবার ভালোই জুমে উঠিছে বিচাকিনা। আমাগারে মাছ ধরার যন্ত্ররপাতি ইবার ভালোই চলতিচে। দামও বাড়তিচে।’

গুরুদাসপুর উপজেলার সিধুঁলাই গ্রামের আব্দুর রহিম বলেন, ‘দাম ভালোই উটিচে। যতো বৃষ্টি হবি তত দাম বাড়বি।’ বড়াইগ্রাম উপজেলার চামটা গ্রামের দবির উদ্দিন বলেন, ‘খাজনা আর বাজনা দিতিই আমাগারে লাভ শেষ। তারপর বাঁশ সুতলির যে দাম বাড়িচে তাতি কেবল আমাগারে মজুরিডাই থাকতিচে।’ এ সময় চাটমোহরের ধরইল, দিয়ারপাড়া এবং লাউতিয়া জিয়ানী পল্লীর জমির আলী, ওমর আলী, রাহাত, রায়হান, মজেনা, ফরিদা ও আনোয়ারা জানান, সারা বছরই এসব মাছ ধরার সরঞ্জাম বানানো ও বিক্রি হয়। তবে বর্ষায় বেশি হয়। আর এসবই ছোট মাছ ধরার। নানা রকম নাম মাছ ধরার এ সব সরঞ্জামের। যেমন খৈলশুনী, ধুন্দি, বৃত্তি, ছোট খাদুন/বড় খাদুন ইত্যাদি। তারা জানান, এসব বানাতে বাঁশ, তালের প্যাখের আঁশ, লৈ (জঙ্গলের এক ধরনের লতা), দড়ি ও পাটের সুতলি লাগে। নারী-পুরুষ মিলে তারা এসব বানান বলে জানান। ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে এই হাট থেকে কিনে নিয়ে যায় মাছ ধরার এসব সরঞ্জাম।

সামির আলী বলেন, একটা খৈলশুনী তৈরিতে মজুরি ধরে ৩৫০ টাকা পড়ে, বিক্রি হয় ৪০০-৪২৫ টাকায়; ধুন্দি খরচ ১৫০, বিক্রি হয় ২০০, বৃত্তি ৩৫০টাকা খরচ, বিক্রি ৪০০-৪৫০ আর বড়খাদুন ৩০০ টাকা খরচ, বিক্রি হয় ৩৫০-৪০০ টাকা। ওমর আলী বলেন, ‘আমাদের মজুরি ধরলে খুব লাভ হয় না। তবে এটা আমাদের পেশা তাই বউ-বিটি নিয়ে বানানো হয়।’ মজেনা খাতুন বলেন, ‘আগে আমরাই কেবল এ কাজ করতাম। এখন গেরস্থরাও করে। তাই আমাদের সমস্যা বাড়ছে। তবে আমারে জিনিসির কদরই বেশি।’