সতর্ক হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না করোনা সংক্রমণ। জেলার সর্বত্র চলছে স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা। প্রশাসন এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান জানালেও বাস্তবে কেউই তা মানছে না। আগামী জুলাই মাসে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করলেও কেউই এ ব্যাপারে সচেতন হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ‘মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে আমরা কাজ করছি। যারা আইন মানছে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’ প্রশাসনের এই বক্তব্যে সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, করোনা ভাইরাসের মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। গত এক বছরেও মানুষ স্বাস্থ্যবিধি যেখানে মানছে না, সেখানে আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে আগামীতে আবার পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। করোনা ভাইরাস রোধে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত লকডাউনের ঘোষণা দিলেও তা মানছেন না মানুষ। আর লকডাউন নিয়ে মানুষের মধ্যে তেমন কোনো মাথাব্যথাও নেই। অপরদিকে রেড জোন এলাকা ঘোষণা করা হলেও নারায়ণগঞ্জের কোথাও লকডাউন তো দূরের কথা স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কঠোর হওয়ার জন্য তেমন কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ছে না।
এদিকে আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গত রবিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ২২০ জন হয়েছে বলে নারায়ণগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে। অপরদিকে নারায়ণগঞ্জের কোভিড হাসপাতালের চিকিত্সাব্যবস্থা নিয়ে শুরু থেকেই নানা ধরনের প্রশ্ন রয়ে গেছে। নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে রোগীরা তেমন কোনো ভালো চিকিত্সা পায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে করছেন।
নারায়ণগঞ্জ ক্লাব বিনা পয়সায় ডাক্তারদের জন্য গেস্ট হাউজ ছেড়ে দিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের পক্ষ থেকে অক্সিজেনও দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জবাসী সঠিক চিকিত্সা না পাওয়ায় ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সভাপতির পদ থেকে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান পদত্যাগ করেছেন। নারায়ণগঞ্জবাসী মনে করেন, জেলা প্রশাসন রেড জোনে লকডাউন কার্যকর করার ক্ষেত্রে হার্ডলাইনে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
