প্রায় ৫০০ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুর্নীতির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে দুই প্রতারক। আর এ টাকা লেনদেন হয়েছে কখনো বিকাশে কখনো নগদে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আনিছুর রহমান বাবুল ও ইয়াসিন তালুকদার।
র্যাব-২ এর একটি টিম শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হাজারীবাগের সনাতন গড় বৌবাজার এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। বাবুলের কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত ১৪টি সিম এবং ইয়াসিনের কাছ থেকে ১২টি সিম ও ১৮টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর কাওরান বাজারে র?্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র?্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী।
তিনি বলেন, প্রতারক চক্র সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের টার্গেট করে মোবাইল ফোনে দুর্নীতি মামলা আছে বলে ভয়ভীতি দেখাত। কর্মকর্তারা এ বিষয়ে ভীত হলেই তাদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত্ করত। র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, গত ২৭ জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে র্যাব মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়। ওই চিঠির তদন্তে নেমে এই চক্রের দুইজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, এই চক্রের আরও ৭-৮ জন্য পলাতক রয়েছে এবং তাদের হোতার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে চক্রটি পাঁচ’শ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব কর্মকর্তারা কোনো না কোনোভাবেই দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তা না হলে আর্থিক লেনদেনে যেতেন না।
মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, প্রতারকরা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়।
ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম সংগ্রহ ও বিকাশ একাউন্ট তৈরির বিষয়ে আসামি আনিসুর জানান, বিভিন্ন দোকানে নিম্নবিত্তরা নতুন সিম কিনতে গেলে তাদের সিম ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করে তাতে বিকাশ একাউন্ট খুলত চক্রটি। এছাড়া বিভিন্ন সিম বিক্রির দোকান থেকে ভুয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত সিম সংগ্রহ করে তা দিয়েই প্রতারণার কাজ করত। কয়েকবার একটি সিম ব্যবহারের পর সেটি ফেলে দিত চক্রের সদস্যরা।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, এ চক্রের সদস্য ইয়াসিন তালুকদার একজন বিকাশ এজেন্ট। হাজারীবাগে ৪২/১ নবীপুর লেনে সাইফুল এন্টারপ্রাইজ টেলিকম নামে তার একটি দোকানও রয়েছে। ওই দোকানে সে অন্য মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন এবং বিকাশ একাউন্ট খুলত।
