ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন না। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সোমবার প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথা বলেন তিনি। ইরানের ওপর থেকে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে তিনি বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন কি না, একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘না’। তিনি আরো বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে যতই চাপ আসুক না কেন, এক্ষেত্রে ইরানের জাতীয় স্বার্থকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।
রাইসি ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করার জন্য আমেরিকার এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসতে হবে এবং ইউরোপীয়দের ওয়াশিংটনের চাপের কাছে নতিস্বীকার না করে ইরানের প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে।
সাইয়্যেদ রাইসি তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ব্যাখ্যা করে বলেন, বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করা হবে এবং ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করার জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেবে তার সরকার। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে উল্লেখ করে ইব্রাহিম রাইসি বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে পূর্ণ মাত্রায় কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও পরস্পরের দেশে দূতাবাস পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট বলেন, গত ২৮ জুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইরানের মহান জাতি যথারীতি যে ইতিহাস রচনা করেছে, তা ছিল জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচনে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মধ্যে বিশ্ববাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ছিল বলে উল্লখ করেন তিনি। —বিবিসি
