সাতক্ষীরায় তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিতই থাকছে। জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ।
প্রসঙ্গত ধর্ষণের শিকার মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীকে দেখতে ২০০২ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে যান তত্কালীন বিরোধীদলীয় নেতা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখান থেকে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার সময় কলারোয়া উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। বোমা বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এতে আহত হন শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কয়েক জন নেতাসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরা। ঐ ঘটনায় কলারোয়া থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে তখন তা নেওয়া হয়নি।
এক যুগ পর ২০১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা আদালতে নালিশি মামলা করেন কলারোয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম উদ্দিন। তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১৭ মে বিএনপির তত্কালীন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
এর মধ্যে হত্যাচেষ্টা মামলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক আদালত সব আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেয়। এই দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে ১৮ জন হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। সেখানে সাত জনের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট। এই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও আসামিপক্ষে এম মাহবুব উদ্দিন খোকন শুনানি করেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ চেম্বার জজ আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল রাখে। সেসঙ্গে সাতক্ষীরার জেলা দায়রা জজ আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির জন্য।
