জাতিসংঘের বসতিসংক্রান্ত উপাত্তের ভিত্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর ঢাকা। এর জন্য সিটি করপোরেশনের নাগরিক সেবাদানের পরিধিও দিনদিন বাড়ছে। কিন্তু বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতা, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে এই বিপুল জনসংখ্যা নানা দুর্ভোগ নিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করছে। গতকাল সোমবার ‘শক্তিশালী ঢাকা সিটি করপোরেশন :নারী কাউন্সিলরদের ভূমিকা’বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অনলাইনে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েক জন নির্বাচিত কাউন্সিলর বলেন, ‘আমরা একটা শুভংকরের ফাঁকির মধ্যে পড়েছি। আইনি বাধার কারণে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে নারী কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বলা ‘সংরক্ষিত’ কথাটি বাদ দিতে হবে। তারা প্রশ্ন রাখেন, নারী কাউন্সিলররা নিজ যোগ্যতায় বেশি ভোটে নির্বাচিত হন, তিনটি ওয়ার্ডের দায়িত্বে থেকে কেন তারা সমানভাবে কাজ করতে পারবেন না? পুরুষদের জন্য ৮০ শতাংশ ও নারীদের জন্য ২০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা গেজেটের কোথাও বলা নেই। তারা আরো বলেন, গেজেট বিধির পরিবর্তন করতে হবে, নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করে সমানভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে। এ সময় করোনাকালীন নারীর প্রতি উত্ত্যক্তকরণ বেড়েছে উল্লেখ করে তারা উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধে মহিলা পরিষদকে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এআরবি বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নারীকে দেওয়া হয়েছে। নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য অফিস চলাকালীন নারীদের ভাতা, পেনশন প্রথা চালু ও বিমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। নারী কাউন্সিলরদের ক্ষেত্রে যেসব বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে মহিলা পরিষদের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের তিন জন নারী প্রতিনিধি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব সায়লা ফারজানা বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, সংবিধান, আইনে সামাজিক উন্নয়নে নারীদের অবদান রাখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে কাজ করার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে। নারী কাউন্সিলরদের নিজ অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে আরো সচেতন হতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, গেজেটে নারীদের দায়িত্বের জায়গা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। সর্বোপরি ঢাকা সিটিকে নারীর বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে।
