মানবাধিকারের অপব্যবহার এবং ক্ষয়িষ্ণু গণতন্ত্রের জন্য বেলারুশের এক ডজনেরও বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব বিভাগ একথা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বেলারুশের প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো সরকারের বাড়াবাড়ি রকমের সহিংসতা, নিপীড়ন, রায়ানএয়ারের বাণিজ্যিক ফ্লাইট জোর করে অবতরণ করানোর বেপরোয়া আচরণ এবং সাংবাদিক প্রোতেসেভিচকে গ্রেপ্তারের জবাবে দেশটির ১৬ ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।’ বিবৃতিতে রাজস্ব বিভাগের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্ররা গণতন্ত্রের ওপর কোনও আক্রমণ এবং বাকস্বাধীনতার টুটি চিপে ধরা সহ্য করবে না।’

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছেন বেলারুশের প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা। এর মধ্যে আছেন তার প্রেস সেক্রেটারি এবং বেলারুশের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ কাউন্সিল অব দ্য রিপাকলিক অব ন্যাশনাল এসেম্বলির চেয়ারপারসনও। এছাড়া বেলারুশে গত বছর অগাস্টের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমন-পীড়নে যাদের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ আছে সেইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বেলারুশে গত বছর নির্বাচন ঘিরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ প্রেসিডেন্ট লুকাশেঙ্কোর ২৬ বছরের শাসনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। ৯ অগাস্ট দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট হয়। জালিয়াতির অভিযোগে ভোটের দিন থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ। সেই বিক্ষোভ-আন্দোলনের ঝড় এ পর্যন্ত দমনপীড়ন চালিয়েই ঠান্ডা করে রেখেছেন লুকাশেঙ্কো। বিক্ষোভকারীদের ওপর অন্যায় বলপ্রয়োগের অভিযোগে লুকাশেঙ্কোসহ বেলারুশের শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে গতবছরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ইইউ দেশগুলো।

এ পরিস্থিতির মধ্যে গতমাসে বেলারুশ ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিক প্রোতেসেভিচকে গ্রেপ্তার করতে রায়ানএয়ারের একটি উড়োজাহাজ জোর করে মিনস্কে অবতরণ করানোয় আরও ক্ষুব্ধ হয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউরোপের আকাশে বেলারুশিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান চলাচল নিষিদ্ধও ঘোষণা করেছে গত মাসেই। এবার যুক্তরাষ্ট্রও দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলো।
ইত্তেফাক/এএইচপি
