সিঙ্গাইর উপজেলা নির্বাচন
মানবেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থেকে এবারে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দলের ৮ জন মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেছেন। নির্বাচন উপলক্ষে গত বৃহস্পতিবার তৃণমূলের এক বর্ধিত সভায় উপস্থিত মমতাজ বেগম এমপি’র কাছে তারা তাদের আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। বর্ধিত সভায় উপস্থিত তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা এ সময় বলেন, এমপি যার নাম বাছাই করে কেন্দ্রে পাঠাবেন আমরা তাকেই মেনে নেব।
এখানে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন একমাত্র নারী প্রার্থী টানা দ্বিতীয়বারের মতো বর্তমান উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন। সিংগাইরে এই প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে দেখা গেল কোনো নারী মুখ। তাকেই দেওয়া হবে মনোনয়ন- এমন প্রত্যাশা নিয়েই তিনি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবারে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার লক্ষ্যে। উপজেলার অন্তত এক ডজন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এই নারী। সারা বাংলাদেশে ৪ নারী ভাইস চেয়ারম্যানের মধ্যে তিনি একজন।
আনোয়ারা খাতুন মানিকগঞ্জ জেলা নারী ফোরামের সভাপতি। এছাড়া তিনি সিঙ্গাইর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, উপজেলা নারী উন্নয়ন ফোরাম, মহিলা পরিষদসহ অন্তত ১২টি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি সিঙ্গাইর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন। ২০১৪ সালে সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি সম্মাননা পান এবং ২০১৮ সালে ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে মনোনয়নপ্রাপ্ত হয়ে পল্লী উন্নয়ন পদক পান।
এদিকে আরেক শক্তিশালী মনোনয়ন প্রত্যাশী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান বলেন, স্কুল জীবনেই কলেজে গিয়ে ছাত্রলীগের বড় ভাইদের মিছিলে অংশগ্রহণ করেছি। কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে ভিপি নির্বাচিত হয়েছি। ছাত্রলীগ করার অপরাধে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে বার বার জেল খেটেছি, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। আশা করি দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে। তবে না দিলেও আমার কোনো আপত্তি থাকবে না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকেও বিচ্যুত হবো না এবং এমপি মমতাজ বেগমের নির্দেশেরও বাইরে যাবো না।
দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না এমন কথা জানালেন, আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সায়েদুল ইসলামও। আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি আব্দুল মাজেদ খান বলেন, এখানে দুই জনপ্রতিনিধি রয়েছেন ১২ বছর ধরে যারা আওয়ামী লীগ করেন না। তাদের একজন বিগত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং তার বাড়ির সবাই বিএনপি করেন। আরেকজনের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। আবার এমপি’র আত্মীয়স্বজন কিংবা যাদের নামে মামলা রয়েছে তারা মনোনয়ন চাইতে পারবেন না। আর যদি তাদের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয় তাহলে সেটা কেউ মানবে না। এছাড়া আরো যারা মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন তারা হলেন— থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলী ইস্কান্দার আহম্মেদ, থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহাদত্ হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান ও থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হোসেন বাদল।
বর্ধিত সভায় মমতাজ বেগম এমপি বলেন, জেলা ও উপজেলা নেতাদের মতামত নিয়েই যারা যোগ্য এবং দলের জন্য কাজ করছেন তাদের নাম পাঠানো হবে এবং যিনি মনোনয়ন পাবেন নৌকার স্বার্থে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে তার হয়েই সকলকে কাজ করতে হবে।
