অরক্ষিত রানি ময়নামতী প্রাসাদ!

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ২১:২৯

কুমিল্লার প্রত্নসম্পদসমৃদ্ধ লালমাই-ময়নামতী পাহাড়ের সর্ব উত্তরের একটি বিচ্ছিন্ন টিলার ওপর প্রায় ১ হাজার ৩০০ বছরের পুরোনো ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে সগৌরবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থেকে সভ্যতার জানান দেওয়া রানি ময়নামতী প্রাসাদ ও এর আশপাশ এলাকাটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। জেলার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতী ইউনিয়নের সমেষপুর গ্রামের পাশ জুড়েই রানি ময়নামতী প্রাসাদের অবস্থান। প্রায় ১৬ মিটার উচ্চতায় এই প্রাসাদের উত্তর-দক্ষিণে ১৫৫ দশমিক ৪৫ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৫২ দশমিক ৪০ মিটার স্বল্প উচ্চতার প্রাচীর রয়েছে। রানি ময়নামতী প্রাসাদ এলাকায় দর্শনার্থীদের জন্য কোনো বিশ্রামাগার নেই। দিনের বেলায় দুই জন দৈনিক বেতনের শ্রমিক দেখভাল, পরিচর্যা করলেও দুপুরের পর থেকেই কার্যত অরক্ষিত হয়ে যায়। সন্ধ্যা নামার পর সেখানে এক ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করে। সন্ধ্যার পর থেকেই এখানে মাদকসেবীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। ফলে একদিকে খননকৃত স্থানগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং টিকে থাকা শেষ স্মৃতি চিহ্নগুলোও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ুবিভিন্ন দূরদূরান্ত বা জেলা সদর থেকে আসা ভ্রমণপিপাসুরা একদিকে যেমন নিরাপত্তার অভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে, তেমনি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ থেকেও দর্শনার্থী বা ভ্রমণপিপাসুদের সুবিধার্থে এই স্থানটি আকর্ষণীয় করার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এতে দিনদিন এই স্থানটিতে ভ্রমণপিপাসুর সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে। এ অবস্থায় স্থানীয় মানুষের দাবি, দেশের উল্লেখযোগ্য প্রাচীন নিদর্শনসমৃদ্ধ রানি ময়নামতী প্রাসাদ এলাকা সংরক্ষণসহ নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করে ভ্রমণপিপাসুদের স্বাভাবিক চলাফেরার সুযোগ করাসহ ঐতিহাসিক স্থানটির সুষ্ঠু সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক।

মামশাদ কবীর

কান্দিরপাড়, কুমিল্লা-৩৫০