করোনার সংক্রমণ রোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে লকডাউন ও বিধিনিষেধে বিপাকে পড়েছেন ত্রিশাল উপজেলার অর্ধশতাধিক বেসরকারি মাছ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান হ্যাচারি। হ্যাচারির মালিকরা আগের মতো সরবরাহ করতে না পেরে উত্পাদিত রেণু ও পোনা মাছগুলো অবমুক্ত করে দিচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদে। আর প্রতি মাসে বিদ্যুত্ বিল, কর্মচারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হ্যাচারি মালিকদের।
উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের ধলা রূপা মত্স্য হ্যাচারি অ্যান্ড নার্সারির মালিক আব্দুল মালেক বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব ও লকডাউনের কারণে এক বছরের অধিক সময় ধরে হ্যাচারির খুব করুণ অবস্থা। লাভবান হওয়াতো দূরের কথা বিদ্যুত্ বিল ও কর্মচারী পরিচালনা করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। সরবরাহ করতে না পেরে উত্পাদিত রেণু ও পোনা মাছগুলো অবমুক্ত করে দিতে হচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদে। ফলে প্রতি মাসে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এক সময় হয়তো বা হ্যাচারি ব্যবসা ছেড়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও এর আওতায় পড়েনি ত্রিশালের এ হ্যাচারি শিল্প। শাপলা মত্স্য হ্যচারির মালিক জসিম উদ্দিন, নিরাপদ মত্স্য হ্যচারির মালিক বাবুল আহমেদ, মীম হ্যাচারির মালিক বাসির আহমেদ বিপ্লব ও সবুজ বাংলা মত্স্য হ্যাচারির মালিক আব্দুল আউয়াল জানান, মন্দা অবস্থায় এখানকার হ্যাচারির ব্যবসা। কোনো হ্যাচারির মালিক সরকারের প্রণোদনার আওতায় আসেনি, কেউ কোনো সুবিধাও পায়নি। অথচ এক বছরের অধিক সময় ধরে মহামারি করোনার কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালানো কঠিন হয়ে উঠেছে। তারা বলেন, সরকার যদি হ্যাচারি শিল্পের প্রতি নজর দিয়ে তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে, তবে ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে উঠতে পারব। একই সঙ্গে বেঁচে থাকবে ত্রিশাল উপজেলার প্রায় অর্ধশত মাছের পোনা ও রেণু উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠান হ্যাচারি।
উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ জানান, মাছের রেণু ও পোনা উত্পাদনকারী হ্যাচারি ও নার্সারিগুলোর জন্য সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা আসেনি। এমনকি মাছচাষিদের জন্যও এ উপজেলায় সরকারি কোনো প্রণোদনা আসেনি। তিনি আরো জানান, উপজেলায় অর্ধশতাধিক মত্স্য হ্যাচারি ও নার্সারি রয়েছে।
