খুলনায় করোনায় মৃত্যু ও শনাক্ত বেড়েছে

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ২২:৩৪

খুলনা বিভাগে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা ফের বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখানে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। এ সময় ৯৯৮ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এদিকে রাজশাহীতে করোনার সংক্রমণ কমলেও মৃত্যু কমেনি। রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যশোরে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ছয় জন এবং উপসর্গ নিয়ে আরো চার জন মারা গেছেন। মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটা জেলার সর্বোচ্চ। করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সাতক্ষীরায় চার নারীসহ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে।  টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌরসভায় গতকাল থেকে সাত দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। খবর আমাদের স্টাফ রিপোর্টার, অফিস, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।

খুলনা :খুলনা বিভাগে ফের বেড়েছে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। কোনোভাবেই থামছে না মৃত্যুর মিছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিভাগে মৃত্যু হয়েছে ২৭ জনের। এ সময় সর্বাধিক মৃত্যু ও শনাক্ত হয়েছে খুলনা জেলা ও মহানগরীতে। একই সময়ে বিভাগে ৯৯৮ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. রাশেদা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায়                ৯ জন, কুষ্টিয়ায় পাঁচ জন, যশোরে চার জন, বাগেরহাটে চার জন, নড়াইলে তিন জন ও মেহেরপুরে দুই জন মারা গেছেন।

খুলনায় করোনার সংক্রমণ রোধে সাত দিনের কঠোর লকডাউন শুরু হয়েছে। মানুষের চলাচল বন্ধে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও গলির মাথায় বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। তবে লকডাউ?নের প্রথম দিন মঙ্গলবার সকালে খুলনা মহানগরীতে সাধারণ মানু?ষের উপ?স্থি?তি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপ?স্থি?তি বৃদ্ধি পায়। এদিকে সর্বাত্মক লকডাউন সফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর তত্পরতা অব্যাহত রয়েছে।

রাজশাহী :রাজশাহীতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমেছে। তবে কমেনি করোনা ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা।  গত ২৪ ঘণ্টায়  রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আরো ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত চিকিত্সাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। এদের মধ্যে পাঁচ জন পজিটিভ, আট জন উপসর্গে নিয়ে মারা যান। রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে চলতি মাসের ২২ দিনে (১ থেকে ২২ জুন) এই হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা গেছেন ২২৯ জন। এর মধ্যে ১১০ জনই মারা গেছেন করোনা শনাক্তের পর। বাকিরা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। রামেকের পরিচালক জানান, নতুন মৃতদের মধ্যে ১২ জনই রাজশাহীর (পজিটিভ পাঁচ, উপসর্গে সাত), একজন নাটোরের (উপসর্গে)। মৃতদের ১০ জন পুরুষ ও তিন জন নারী। তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ৩৭, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ, নাটোরের সাত, নওগাঁর পাঁচ, কুষ্টিয়ার এক এবং অন্যান্য এক জন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এই হাসপাতালের ৩০৯ বেডের বিপরীতে করোনা ও উপসর্গের রোগী ভর্তি রয়েছেন ৩৯৩ জন।

যশোর :সীমান্ত জেলা যশোরে তৃতীয় দফায় বিধিনিষেধ বাড়িয়ে আরো কঠোরতা আরোপ এবং তা পুরো জেলায় বিস্তৃত করা হয়েছে। মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিট থেকে তা কার্যকর হয়েছে। এর আগে দুই দফায় জেলার অংশবিশেষের জন্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এবারের বিধিনিষেধের মধ্যে জেলার সব গরুর হাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে ছয় জন এবং উপসর্গ নিয়ে আরো চার জন মারা গেছেন। মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটা জেলার সর্বোচ্চ রেকর্ড। এই নিয়ে জেলায় মোট মৃত্যু ১২২ জনের। পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৫২৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৫৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

সাতক্ষীরা :করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চার নারীসহ ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ৬১ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন অন্তত ২৮১ জন। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় ১৮৮ জনের মধ্যে ৮৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৪৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

টাঙ্গাইল :টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গা পৌরসভায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে সাত দিনের জন্য কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জেলা প্রশাসন এই উদ্যোগ নিয়েছে। এদিকে টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় টাঙ্গাইলে আরো দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১০১। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১২১ জন।