কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ নিয়ে চাপে চট্টগ্রামের খামারিরা

আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ২২:৩৪

চট্টগ্রামে এবার কোরবানির বাজারে গরুর সংকট হবে না। স্থানীয়ভাবে গত বছরের চেয়ে বেশি গরু মোটাতাজাকরণ হয়েছে। পাশাপাশি বাইরে থেকে কিছু গরু আসলে চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর বাজারে সংকট হবে না। তবে খামারিরা জানান, গত এক মাস যাবত্ হঠাত্ গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন তারা। প্রতিটি খাদ্যের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে গো-খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে গরুর মোটাতাজাকরণে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। কোরবানির পশুর বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেলে খামারিরা লোকসানে পড়বেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানায়, গত বছর চট্টগ্রামে ৭ লাখ ৩৫ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ৬ লাখ ৮৯ হাজার কোরবানির পশু পালন করা হয়েছিল। করোনার কারণে বাইরে থেকে গরু আনতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। ফলে বাজারে শেষদিন গরুর সংকট দেখা দিয়েছিল। এবার স্থানীয়ভাবে সাড়ে ৭ লাখ কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ হয়েছে। প্রতি বছর ৮ থেকে ১০ শতাংশ হারে কোরবানির পশুর চাহিদা বাড়ে। সেই হিসাবে এ বছর ঈদে প্রায় ৮ লাখের কিছু বেশি কোরবানি     হতে পারে। চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল হক ইত্তেফাককে বলেন, গত বছর বাইরে থেকে ২৫ হাজার গরু আসলে বাজারের চাহিদা মেটান যেত। কিন্তু আনা হয়েছিল ১০-১২ হাজারের মতো। এবার চট্টগ্রামে বাইরে থেকে গরু আসবে। স্থানীয়ভাবেও উত্পাদন বেড়েছে। ফলে এবার বাজারে পশুর কোনো সংকট হবে না।’

গরু ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছর করোনার কারণে গরুর হাট বসা নিয়েও গরু ব্যবসায়ীরা সংশয়ে ছিলেন। করোনায় আর্থিক সংকটের কারণে কোরবানি কম হবে ধারণা ছিল। তাই ব্যবসায়ীরা গরু কম এনেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে গত বছর চট্টগ্রামে তার আগের বছরের চেয়ে বেশি কোরবানি হয়েছে। তাই কোরবানির পশুর বাজারে গরু আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। গরু ব্যবসায়ী শওকত আলী বলেন, ভারত থেকে গরু আসা অনেক আগে থেকেই বন্ধ। মিয়ানমার থেকে কিছু গরু আসতে শুরু করেছে। কুষ্টিয়া ও রাজশাহী এলাকায় খামারিরা প্রচুর গরু মোটাতাজা করেছে। ছোট ও মাঝারি সাইজের এসব গরুর চাহিদা বাজারে বেশি থাকে।’

এদিকে হঠাত্ করে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, গো-খাদ্যের মধ্যে রয়েছে সয়ামিল, গমের ভুসি, রাইস পালিস, ভুট্টা, মসুর ডালের ভুসিসহ আরো কয়েকটি গো-খাদ্য রয়েছে। গত রমজান মাস থেকে গো-খাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েই চলেছে। এতে গরু মোটাতাজাকরণে খরচ বেড়ে গেছে। আবার পশুর পাইকারি বাজারগুলোতে গরুর দামও বেড়ে গেছে। খামারিরা জানান, মূলত পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে গো-খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। গমের ভুসি প্রতি বস্তা (৩৭ কেজি) ৮০০-৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকায়, রাইস পালিস ৬০০-৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩০০ টাকায়, সয়ামিল ১৪০০/১৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকায় ও মসুর ডালের ভুসি (৩০ কেজি) ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জানা যায়, সয়ামিলের দাম দেশের কয়েক জন সয়াবিন মিল মালিক বাড়িয়ে দিয়েছে। মূলত এটি সয়াবিনের অবশিষ্ট অংশ। এটি গো-খাদ্য হিসাবে ব্যবহার হয়। বাজারে সয়ামিলের চাহিদাও বেশি। মিল মালিকরা সিন্ডিকেট করে অতি চাহিদাপূর্ণ এই গো-খাদ্যের দাম বাড়িয়েছে। গমের ভুসির চাহিদাও বেশি। এই পণ্যটির দাম আটা ময়দার মিল মালিকরা বাড়িয়ে দিয়েছে। খামারি নাজমুল হাসান জানান, তার খামারে কোরবানির ৩২টি গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। কিন্তু গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা খরচ বেড়ে গেছে। আরেক খামারি মো. ওমর বলেন, বর্তমানে দেশে প্রচুর ডেইরি খামার রয়েছে। সেসব খামারের গরু লালনপালনের জন্য গো-খাদ্যের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে খামারে গরু মোটাতাজা করতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে।’ খামারি ইকবাল হোসেন বলেন, কোরবানির আগ মুহূর্তে গো-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গরু মোটাতাজাকরণের খরচ বেড়ে গেছে। ফলে গরুর ন্যায্যমূল্য না পেলে খামারিরা লোকসানে পড়বেন।’