নাজিরপুরে ইউপি নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ করে ক্ষমতাসীন দলের দুই সদস্য পদপ্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশের দুই এসআই, নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত আনসার সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। সোমবার রাতে ৬ নম্বর নাজিরপুর ইউনিয়নের স্থানীয় সাতকাছিমা ভোটকেন্দে এই ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে কেন্দে দায়িত্বে থাকা পুলিশের এসআই ইমাম হাসান (৩১), মো. বাচ্চু মিয়া (৫৩) এবং পুলিশ সদস্য মো. নুরুল আমীন (৫৮), ছগির হোসেন (২৮), দেব দুলাল হালদার (৩০), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দেহরক্ষী সাইমুন হোসেন (৩৫), আনছার সদস্য ইমারেজ ফকির (৩৫), মো. আমিন ফকির, মো. শাহ আলম (২৮) নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত সালমা বেগম, স্থানীয় সায়েব আলী শেখের ছেলে রিয়াজ শেখ (৫৬), হাসনা বানু (৮০), ছাত্রলীগ নেতা রাকিব শেখসহ আরো অনেকে আহত হয়। তাত্ক্ষণিক ভাবে আহতদের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ সময় হামলাকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজিবি সদস্যদের বহন করা তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নির্বাচনের দিন রাত ৮টার দিকে নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণার কাজ শেষ হয়। এ কেন্দে ভোট গণনা অনুযায়ী ওয়ার্ডের মেম্বার মো. আলমগীর হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। কিন্তু কিছু সময় পর বিজয়ী আলমগীর হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. কামরুল হোসেন মোল্লার কিছু ব্যালট বিজয়ী প্রার্থীর বান্ডিলে রয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী কামরুল মোল্লার কর্মীরা ভোটকেন্দে গিয়ে ঐ কেন্দে র দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়লে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। এ ঘটনায় ঐ রাতে ভোটকেন্দে র দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলী আশ্রাফ বাদী হয়ে ৪৯ জনকে নামীয় ও আরো ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. রাকিবুল হাসান শেখসহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
