সময় থাকিতে সংশোধন আবশ্যক

আপডেট : ২৩ জুন ২০২১, ২১:২২

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ নিষেধাজ্ঞাকে আমলে না লইয়া সদ্য বিদায়ি উপাচার্য আবদুস সোবহান তাহার শেষ কর্মদিবস ৬ মে তারিখে ১৩৮ জনকে অ্যাডহক (অস্থায়ী) ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়াছিলেন। সেই নিয়োগ লইয়া গত দেড় মাস ধরিয়া সেইখানে তুঘলকি কাণ্ড ঘটিয়া চলিতেছে। ইতিপূর্বে এই নিয়োগকে কেন্দ্র করিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হইয়াছে। ইহা লইয়া সংসদে আলোচনা হইয়াছে এবং এই নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করিয়া ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করিয়াছে। অর্থাত্ যাহা হইবে নিয়মের মধ্যেই হইবে। কিন্তু সদ্য সাবেক উপাচার্যের শেষ দিনে ‘অবৈধভাবে’ নিয়োগপ্রাপ্তরা গত শনিবার সকাল হইতে ক্যাম্পাসে স্ব স্ব পদে যোগদানের দাবিতে আন্দোলন করিয়াছে। ইহার ফলে শনিবার ফাইন্যান্স কমিটির সভা স্থগিত হইয়া যায়। সেই সময় তাহারা ঘোষণা দিয়াছিলেন—সিন্ডিকেট সভাও করিতে দিবেন না। তাহারা বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত রুটিন উপাচার্যের বাসভবনসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভবনের তালা লাগাইয়া দিয়াছিলেন। যদিও রবিবার রাতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে সেই সকল তালা খুলিয়া দেওয়া হয়।

আমরা স্পষ্ট করিয়া বলিতে চাই, সদ্য সাবেক উপাচার্যের মাধ্যমে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তরা দীর্ঘ দেড় মাস ধরিয়া আন্দোলন-সংগ্রাম করিয়া যাইতেছেন, তাহা অনভিপ্রেত এবং দুঃখজনক। কারণ এই নিয়োগের ব্যাপারে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রহিয়াছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় যখন কোনো সিদ্ধান্ত লইতে যাইতেছে, তখনই ঐ ‘অবৈধভাবে’ নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রশাসনের সহিত বাগিবতণ্ডায় জড়াইয়া পড়িতেছেন এবং চাকরির দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলাইয়া দিতেছেন। অথচ সরকারের নির্দেশনা রহিয়াছে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার। সর্বশেষ গত মঙ্গলবারও আমরা দেখিতে পাইলাম, ‘অবৈধ’ নিয়োগপ্রাপ্তদের বাধার মুখে সিন্ডিকেট সভা স্থগিত করিতে বাধ্য হইয়াছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন হইল, নিয়োগের বৈধতা কি গায়ের জোরে আদায় করা হইবে? সকল কিছুর তো একটি নিয়মনীতি রহিয়াছে। সেই নিয়মনীতিকে পাশ কাটাইয়া হুমকি-ধমকি, শাসানি, মোটরসাইকেলের মহড়া, সংঘর্ষ কিংবা প্রশাসন ভবনগুলিতে তালা লাগাইবার দুঃসাহস তাহারা কী করিয়া পায়? ঐ জেলায় পুলিশ এবং প্রশাসন কী করিতেছে? তাহারা কি কুম্ভকর্ণের নিদ্রা দিতেছে? আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব তো তাহাদেরই। তাহারা কি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিতেছেন? পালন করিলে কাহারো পক্ষে দেড় মাস ধরিয়া এই ধরনের ষণ্ডাগিরি করিবার সাধ্য কী করিয়া হয়? আমরা তাহাদের স্মরণ করাইয়া দিতে চাই, কয়েক দশক পূর্বে তাহারা কত টাকা বেতন পাইতেন? এখন তাহাদের বেতন-ভাতা কি বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পাইয়াছে—তাহা কি তাহারা ভাবিয়া দেখিয়াছেন? অর্পিত দায়িত্ব পালন করিয়া বেতন হালাল করিবার দায়িত্ব কি ইমানি দায়িত্ব নহে?

বর্তমান সরকার কী না করিতেছে! সারা দেশেই উন্নয়নকাজের এক বিস্ময়কর জোয়ার আসিয়াছে। তাহা পৌঁছাইয়া গিয়াছে জেলা-উপজেলা হইতে তৃণমূল স্তর অবধি। কিন্তু এত কাজ এত অর্জন সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙাইয়া কতিপয় ষণ্ডা-গুন্ডারা সরকারের মানসম্মান নষ্ট করিতেছে। এই ক্ষেত্রে পুলিশকে তাহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করিতেই হইবে। মনে রাখিতে হইবে, সারা দেশে যেইখানেই এই ধরনের অরাজকতা তৈরি হইবে, তাহা চিরকাল মানুষ চাহিয়া চাহিয়া দেখিবে না। এই জন্য বিদ্বজ্জনেরা মনে করেন, বর্তমান অবস্থাই শেষ কথা নহে। কেহ যদি মনে করিয়া থাকেন, এই ধরনের অরাজকতা করিয়া চিরকাল বহাল তবিয়তে বসবাস করিতে পারিবেন—তাহারা বোকার স্বর্গে বসবাস করিতেছেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবীর কোথায় দীর্ঘদিন ধরিয়া বিরাজমান অন্যায়, অনাচার জনগণ মানিয়া লয় না, লইতে পারে না। সুতরাং সময় থাকিতে ইহার সংশোধন আবশ্যক।